প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:০৩ এএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:১০ এএম
ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) । নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রানীকে শেষবিদায় জানানোর আয়োজন করা হয়েছে। রানীর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের নেতারা হাজির হয়েছেন।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যের চূড়ান্ত পর্বটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় শোক প্রকাশের উপলক্ষই নয়, বরং একই সঙ্গে হয়ে উঠছে সাম্প্রতিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সমাবেশ।
বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে এক সংবর্ধনায় রবিবার রাতে আমন্ত্রিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা প্রথমবারের মতো একত্রিত হয়েছেন। আজ তারা অংশ নেবেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানীর জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রার্থনায়।
রানীর শেষকৃত্যের আয়োজনটিতে বিভিন্ন দেশের সম্রাট, বাদশাহ, রাজা-রানী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের যেমন মহামিলন ঘটছে, তেমনই একে জাতীয় ঐক্যের স্বাক্ষর হিসেবে প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। গতকাল রাতে আমন্ত্রিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা প্রথমবারের মতো একত্র হয়েছেন বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে এক সংবর্ধনায়। আর আজ মৃত্যুর দ্বাদশ দিনে তাঁরা অংশ নেবেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানীর জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রার্থনায়।
ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে গির্জায় লোকজনের ধারণক্ষমতা দুই হাজার। তাই পাঁচ শতাধিক বিদেশি অতিথির বাইরে অন্যদের সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে, রানীর শেষকৃত্য উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য লন্ডনের কেন্দ্রে কিছুটা জায়গায় বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলেও লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করা হয়নি। সাত থেকে ১০ লাখ মানুষ ছয় থেকে আট ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে রানীর কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে গেছেন।
তাঁদের সবাইকে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁদের সবাই যে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা তা-ও নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূর থেকেও অনেকে এসেছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি বৈশ্বিক কৌতূহল বা আগ্রহের পুরোটাই যাতে আত্মস্থ করা সম্ভব হয়, সেজন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।
ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পুরো দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। ব্রিটেনে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এই দিনটিতে।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন ব্রিটেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় সিংহাসনে আসীন রাজশাসক। স্কটল্যান্ডের ব্যালমোরাল প্রাসাদে তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৯৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রানীর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে সোমবার সকালের দিকে রানীর মরদেহ ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদ থেকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নিয়ে যাওয়া হবে।
রাজা তৃতীয় চার্লস ও রাজপরিবারের সদস্যরা কফিনের সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে যাবেন। রাজকীয় নৌবাহিনীর ১৪২ জন নাবিক একটি কামানবাহী শকটে করে কফিনটি টেনে নিয়ে যাবেন। তখন সেখানে দুই হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
সোমবার সকাল ১১টায় শেষকৃত্য শুরু হয়ে দুপুরের ঠিক আগে অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে।
ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর রানীর মরদেহ লন্ডনের পশ্চিমে উইন্ডসর কাসলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে উইন্ডসর কাসলের পাশে সেন্ট জর্জ গির্জায় আরেকবার ছোট করে প্রার্থনা করা হবে।
উইন্ডসরের ডিন সেখানে একটি প্রার্থনা পরিচালনা করবেন। প্রায় ৮০০ জন লোক এতে উপস্থিত থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এসব হয়ে যাওয়ার পর সোমবারই রানীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ লোকজনদের জন্য আরেকটি প্রার্থনা সভা হবে। এরপর রানীর কফিনটি সেন্ট জর্জ গির্জার রয়্যাল ভল্টে সমাহিত করা হবে। যেখানে রানীর স্বামী এডিনবার্গের প্রয়াত ডিউকের মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে।
প্রবা/জিজি/ এসআর