প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১৪:০৯ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৩ ১৫:২৯ পিএম
যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর বাখমুতের সাম্প্রতিক চিত্র। ছবি : বিবিসি
বাখমুতের সম্মুখ সারিতে ইউক্রেনের অগ্রগতির প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
এদিকে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধরত ভাড়াটে সেনার গ্রুপ ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন নিয়মিত রাশিয়ান সেনাদের বাখমুতের চারপাশে অবস্থান পরিত্যাগ করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাশিয়ান সামরিক ব্লগাররা ইউক্রেনের অগ্রগতি বা সেনাদের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু, ক্রেমলিন ইউক্রেনের সেনাদের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা অস্বীকার করেছে।
এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ফ্রন্টলাইনে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ব্রেকথ্রু সম্পর্কে টেলিগ্রামে ব্যক্তিগত ঘোষণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশেষ সামরিক অভিযান অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এর আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে যা আছে তা দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি এবং আমি মনে করি আমরা সফল হতে পারব।’
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোভিশন নিউজের জন্য একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘তবে আমরা অনেক লোককে হারাবো। আমি মনে করি এটি অগ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের আরও কিছুটা সময় দরকার।’
বারবার রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হওয়া প্রিগোজিন বলেছেন, ‘যে অঞ্চলগুলো আমরা বহু মাস ধরে আমাদের ভাই-বোনের রক্ত ও জীবনের মূল্যে দখলে নিয়ে এসেছি, সে অঞ্চলগুলো রাশিয়ার সেনাদের দ্বারা কার্যত যুদ্ধ ছাড়াই পরিত্যক্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে, ক্রেমলিনপন্থি রাশিয়ান যুদ্ধ সংবাদদাতা সাশা কোটস দাবি করেছেন যে, কিয়েভের বহুল প্রত্যাশিত পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে।
‘বিশ্বস্ত’ সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় ট্যাঙ্কগুলো রাশিয়ার সীমান্তের দিকে খারকিভ রিং রোডে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কিয়েভ বাখমুতের পার্শ্বে আর্টিওমভস্কে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু করে উত্তর ফ্রন্টের পরিস্থিতি আরও খারাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরেক রাশিয়ান যুদ্ধ সংবাদদাতা আলেকজান্ডার সিমোনভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী বাখমুতের কাছে বোহদানীভকা গ্রামের কাছে বেশ কয়েক বর্গ কিলোমিটার ভূমি দখল করেছে।’
অন্যদিকে যুদ্ধ অধ্যয়নের ইনস্টিটিউট বলেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী সম্ভবত বাখমুতের চারপাশে কিছু প্রতিরক্ষামূলক লাইন ভেঙেছে এবং কিছু এলাকায় রাশিয়ান সেনাদের প্রায় দুই কিলোমিটার পিছু হটতে বাধ্য করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক বলেছে, ‘রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণগুলোকে দ্রুত স্বীকার করছে।’
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক ওলেক্সান্ডার মুসিভেনকো বলেছেন, কিয়েভ স্বীকার করেছেন যে, প্রত্যাশিত পাল্টা আক্রমণ অবশ্যই সমস্ত দখলকৃত এলাকায় রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারেনি।
তিনি ইউক্রেনীয় এনভি রেডিওকে বলেন, ‘আগামী বছর পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে পারে-- এমন সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর সবই নির্ভর করবে কীভাবে যুদ্ধের বিকাশ ঘটবে তার ওপর। আমরা গ্যারান্টি দিতে পারি না যে, কীভাবে পাল্টা আক্রমণ গড়ে উঠবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রের ডিপো, কমান্ড সেন্টার এবং আর্মার এবং আর্টিলারি সিস্টেমের মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে একটি বড় পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘তারা বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি ইউক্রেনের হামলা নস্যাৎ করেছে।’
রাশিয়া গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে অব্যাহত লড়াইয়ে হাজার হাজার বেসামরিক এবং সেনা নিহত ও আহত হয়েছে।
যুদ্ধে শহরগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ৮২ লাখ ইউক্রেনীয় ইউরোপে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি