প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ভবন। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে সাড়ে ৬শ কোটি ডলার সহায়তা পাওয়ার আশায় রয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে সে আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমান পরিস্থিতি খেলাপি হওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে।
মঙ্গলবার (৯ মে) ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর রাস্তায় নেমে এসেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থকরা। দেশজুড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শহরে সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন পিটিআইয়ের আরও তিন নেতা।
এসব ডামাডোলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংকট থেমে নেই। দেশটির রিজার্ভ আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। মাথার ওপর ঝুলছে ঋণের খড়গ। অবস্থা এতটাই নাজুক যে জুনের পরই বিপাকে পড়ে যেতে হতে পারে তাদের। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ইমার্জিং এশিয়ার জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারেথ লেদার বলেন, ‘রাস্তায় প্রতিবাদকারীরা থাকায় ঋণ চুক্তি ফের শুরু করার ব্যাপারে আরও সতর্ক ভূমিকায় দেখা যেতে পারে আইএমএফকে।’
ইমরান খান ইস্যুতে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার ঘটনা এবার প্রথম নয়। এর আগেও এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এক বছর আগে যখন ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং বাজারে তীব্র প্রভাব পড়েছিল।
গত ১২ মাসে পাকিস্তান রুপির মান কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। শেয়ারবাজারের সূচকও পড়তির দিকেই রয়েছে। বুধবার রুপির মান আরও কমেছে। এখন ২৯০ রুপি সমান ১ ডলার। পিজিআইএম ফিক্সড ইনকামের ক্যাথি হেপওর্থ বলেন, পাকিস্তান এবং তাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু না হলেও, এ বিষয়টি আইএমএফের সঙ্গে তাদের আলোচনাকে সত্যিকার অর্থেই জটিল করে তুলবে। এটি আরও দেরি করাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করবে।’
সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ আইএমএফ কর্মী মিশনের প্রায় একশ দিন পার হয়ে গেলেও দুই পক্ষ প্রাথমিক কোনো চুক্তিতে আসেনি। অথচ পরবর্তী তহবিল নিশ্চিত করার জন্য এটি হওয়াটা খুবই জরুরি। জেপি মরগানের বিশ্লেষক মাইলো গুনাসিংঘে বলেছেন, স্বল্প সহায়তা চোখে পড়ছে। আইএমএফ কর্মসূচিও স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে মাইলো বলেছেন, সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই পক্ষেরই রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাকে স্তম্ভিত করছে। জেপি মরগান এর আগে পাকিস্তানের ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানিয়েছিল ১.৩ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সেটি কমিয়ে ০.১ শতাংশ করেছে তারা। আইএমএফ আলোচনায় দেরি হওয়ার কারণে দেশটিকে ‘মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা’ দেখতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ব্যাংকটি।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রেজা বাকির বলেছেন, ‘সদস্য রাষ্ট্রকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সহায়তা করার সক্ষমতা এবং নমনীয়তা রয়েছে আইএমএফের। তবে এক্ষেত্রে সাধারণত দেশকে নির্ভরযোগ্য নীতি এবং আর্থিক বিষয়াদি দেখাতে হয়, যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে নির্ভরতার সঙ্গে লেনদেন ভারসাম্য সমস্যার সমাধান করবে।’
পাকিস্তানে এখনও সেনাবাহিনী অনেক ক্ষমতাধর। দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় তারা সরাসরি শাসন করেছে। ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তা বন্ধ করতে বুধবার সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান সরকার। লন্ডনভিত্তিক টেলিমেরের ন্যায্যতা বিচার বিভাগের প্রধান হাসনাইন মালিক জানান, ‘মার্শাল ল’ আরোপ করা না হলে, আইএমএফের আলোচনা স্থগিত করার কোনো কারণ নেই। তবে সহিংসতার ঘটনার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে এবং তীব্র রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স