প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:০০ পিএম
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৩১ পিএম
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের লোগো
মিয়ানমারের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া সামরিক জান্তাকে অর্থ সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত বছরের শুরুর দিকে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে বিরাজ করছে চরম অশান্তি। দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মন্দার কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে অর্থনীতি। এমন সময়ে দেশটির সামরিক বাহিনী জড়িয়ে পড়েছে নানা সংঘাতে। এর মধ্যে গণতন্ত্রপন্থিদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর লড়াই করা, বিরোধীদের ধরপাকড় করা, নির্যাতন করা অন্যতম।
তাই জাতিসংঘ দেশটির সামরিক বাহিনীকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, দেশটির শাসক গোষ্ঠী গণতন্ত্রপন্থিদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দেশের জন্য ক্ষতি ডেকে আনছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির সামরিক বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জান্তা সরকার যথাযথ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশের সমস্যা সব সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া দেশটিতে উদ্ভূত গভীর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাতেও সফল উদ্যোগ দেখা যায়নি।
জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ রুখতে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারের জনগণকে সমর্থন দিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে আর্থিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু বেশকিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে এর বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ জান্তাকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে যাচ্ছে।
চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখা যায় জান্তা সরকারের। গত বছরের সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তাপ্রধান তিনবার মস্কো সফর করেছেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া মিয়ানমারকে ফাইটার জেট ও সাঁজোয়া যান সরবরাহ করেছে। এদিকে চীন ফাইটার ও পরিবহন বিমান দিয়েছে। সার্বিয়া রকেট ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে এবং ভারত একটি দূরবর্তী বিমান প্রতিরক্ষা স্টেশন দিয়েছে।
পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে, মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ মেরি লৌলর ও টম অ্যান্ড্রুস বলেন, মিয়ানমারে যারা মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সমর্থন করা উচিত। তাদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে মূলত আন্তর্জাতিক উদাসীনতা বলে অভিহিত করে এর অবসানের আহ্বান জানান দুই বিশেষজ্ঞ।
প্রবা/এনএস/এইচকে/ এসআর