প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৩ ১৬:০২ পিএম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৩ ১৭:৩৪ পিএম
সুইডিশ-ইরানি নাগরিক হাবিব চাব। ছবি : বিবিসি
একটি সামরিক কুচকাওয়াজে ২০১৮ সালের মারাত্মক হামলার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সুইডিশ-ইরানি নাগরিক হাবিব চাবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
হাবিব চাব ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশে জাতিগত আরবদের জন্য স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়ে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বলে দাবি করেছে তেহরান।
তিনি এক দশক ধরে সুইডেনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন এবং ২০২০ সালে ইরানি এজেন্টরা তুরস্ক থেকে তাকে অপহরণ করেছিল।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোবিয়াস বিলস্ট্রম বলেছেন, তার সরকার ইরানকে চাবের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল।
তিনি তখন বলেছিলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড একটি অমানবিক ও অপরিবর্তনীয় শাস্তি। সুইডেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলোর মতোই সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা করে।’
ইরানের বিচার বিভাগ চাবকে হারাকাত আল-নিদাল বা আরব সংগ্রাম আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছিল।
প্রসঙ্গত, তেলসমৃদ্ধ প্রদেশটিতে একটি বড় আরব সংখ্যালঘু রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিকতা ও বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে, যা তেহরান অস্বীকার করে থাকে।
আহভাজ শহরে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে ২০১৮ সালের হামলায় বন্দুকধারীরা বিপ্লবী গার্ড সেনাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল।
ওই হামলায় সেনা ও বেসামরিকসহ ২৫ জন নিহত হয়েছিল।
অপহরণ করে ইরানে পাচার করার আগে চাবকে একজন নারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য ইস্তাম্বুলে যেতে প্রলুব্ধ করেছিল বলে জানা গেছে।
চাবের অপহরণ অভিযানটি তুরস্কভিত্তিক কুখ্যাত ইরানি অপরাধী চক্রের প্রধানের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল।
ইরানের কর্মকর্তারা চাবকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি তাকে ২০১৮ সালের হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করতে দেখিয়েছিল।
প্রসিকিউটররা বলেছেন, চাব ২০০৫ সাল থেকে ‘মোসাদ ও সাপোসহ দুটি গুপ্তচর সংস্থার সুরক্ষার অধীনে’ হামলায় জড়িত ছিল৷
তারা অভিযোগ করেছে, চাবের গ্রুপের অন্যান্য নেতারা ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনে অবস্থান করছে এবং গ্রুপটি সৌদি আরব থেকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা পেয়েছে।
এই বছরের শুরুর দিকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে সম্মত হওয়ায় সাত বছর পর তাদের মধ্যে তিক্ত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা বিদেশি স্থায়ী বসবাসের কয়েক ডজন ইরানিকে গ্রেপ্তার করেছে।
যাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই গুপ্তচরবৃত্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ বলেছে, এই বছর এ পর্যন্ত আরও দুজন দ্বৈত নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আগে বিবিসি ফার্সিকে দেওয়া একটি অডিও বার্তায় চাব বলেছিলেন, তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং ক্যামেরার সামনে অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
সূত্র : বিবিসি