প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ১৯:২৪ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ২১:২৯ পিএম
রাজদণ্ডে যুক্ত থাকা কুলিনান ওয়ান হীরা। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে শনিবার (৬ মে) রাজ্যাভিষেক হতে যাচ্ছে নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের। এ
সময় তিনি ধারণ করবেন রাজদণ্ড। যে রাজদণ্ডে যুক্ত রয়েছে ‘স্টার অব আফ্রিকা’ নামে পরিচিত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরার খণ্ডাংশ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক নাগরিকই মনে করেন, এই হীরার
মালিকানার অধিকার একমাত্র তাদের। নতুন ব্রিটিশ রাজার রাজ্যাভিষেকের আগে দেশটির নাগরিকরা
বৃহত্তম এই হীরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
জোহানেসবার্গের আইনজীবী মোথুসি কামাঙ্গা হীরাটি ফেরত দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন পিটিশনে ৮ হাজার ব্যক্তির স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হীরাটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত আসা দরকার। এটি আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি চিহ্ন হওয়া দরকার। আমি মনে করি, আফ্রিকার সাধারণ জনগণ বুঝতে শুরু করেছে যে স্বাধীনতা কেবল ঔপনিবেশিক শাসন থেকেই মুক্তি নয়, এটি আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনাও।’

জোহানেসবার্গের
আরেক বাসিন্দা মোহামেদ আব্দুল্লাহিও চান হীরাটি ফিরে আসুক। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, হীরাটিকে তার বাড়িতে (দক্ষিণ আফ্রিকায়) ফিরিয়ে আনা উচিত। দিন শেষে তারা আমাদের ওপর
অত্যাচার করার সময় এটি নিয়েছিল।’
তবে অনেকেই
আবার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ডিয়েকেটসেং জাহিদজাবা নামের আরেক দক্ষিণ আফ্রিকার
নাগরিক বলেন, ‘পুরোনো দিনে নিজেদের উচ্চতর স্তরে নেওয়ার জন্য তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ
ছিল। আমাদের কাছে এটি কোনো ব্যাপার নয়। আমি মনে করি না এটি এখন আর গুরুত্বপূর্ণ।’
দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকের শাসনে থাকার সময় ১৯০৫ সালে দেশটির প্রিটোরিয়ায় খননের সময় এটি আবিষ্কৃত হয়। এর ঠিক দুই বছর পরে ঔপনিবেশিক সরকার ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে তা হস্তান্তর করে। এটি ৩ হাজার ১০০ ক্যারেটের একটি হীরা। পরে এটিকে কেটে ফেলা হয়। রাজদণ্ডে স্থাপিত হীরাটি কুলিনান ওয়ান নামে পরিচিত। যেটি প্রকৃত হীরার ৫৩০ ক্যারেটের খণ্ডাংশ। একই পাথর থেকে কাটা আরও একটি ছোট হীরার খণ্ড বসানো হয়েছে ব্রিটিশ রাজার ইম্পেরিয়াল স্টেট ক্রাউনে (মুকুট)।

আর ঔপনিবেশিক
সময়ে লুট হওয়া শিল্পকর্ম ও প্রত্নবস্তুগুলো ফেরতের দাবি বিশ্বের অনেক দেশেই উঠছে। তারই
ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও এটিকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে। দক্ষিণ
আফ্রিকার শহর কেপটাউনের ডায়মন্ড মিউজিয়ামে পুরো হীরার রেপ্লিকা রাখা হয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ
ক্রাউন জুয়েলে থাকা কোহিনূর হীরা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতীয় নাগরিকরা দাবি জানিয়েছিল।
পাকিস্তান ও ইরান এমনকি আফগানিস্তানের নাগরিকরাও কোহিনূর ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল।
তবে এ বিতর্কে যুক্তরাজ্য সাফ জানিয়ে দেয়, কোহিনূরের ওপর দেশটির রাজপরিবারের মালিকানা
নিরঙ্কুশ। কারও কাছেই এটি হস্তান্তর করা হবে না।
সূত্র : আল-জাজিরা