× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কর্ণাটকে বেকায়দায় বিজেপি, উদ্দীপ্ত কংগ্রেস

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ১১:২১ এএম

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩ ১৫:৪৬ পিএম

ভোটের প্রচারে কর্ণাটক সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ভোটের প্রচারে কর্ণাটক সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক রাজ্যকে ‘হিন্দুত্ব’ পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিল ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে সেখানে বিজেপি যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার বেশিরভাগই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের লক্ষ্যে।

এসব পদক্ষেপের মধ্যে দেখা গেছে, রাজ্যের স্কুল-কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামসম্মত ‘হালাল’ মাংস বাজারে বিক্রির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এমনকি নতুন করে ইতিহাস লেখার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। মহীশূরের সাবেক শাসক টিপু সুলতানকে হিন্দুবিদ্বেষী হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হয়েছে। কর্ণাটকে ১০ মে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগ দিয়ে রাজ্যের মুসলিমদের জন্য যে ৪ শতাংশ সংরক্ষণের কোটা ছিল, তা-ও বাতিল করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এত কিছুর পরও বিজেপিকে কোনো নির্বাচনী সুবিধা দেবে না এই হিন্দুত্বের রাজনীতি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের প্রচারে কর্ণাটক সফরে গেছেন। বিজেপিও নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে এখন হিন্দুত্বের কথা না বলে শুধু উন্নয়ন ও অবকাঠামোর কথা বলছে। কর্ণাটকে কংগ্রেসও জোর প্রচার চালাচ্ছে। সেখানে দলের অভ্যন্তরে নানা দ্বন্দ্ব রয়েছে। কিন্তু সেসব বাদ দিয়ে কংগ্রেস নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রচারে।

কর্ণাটকের রাজনীতি নির্ভর করে রাজ্যের হিন্দুদের প্রধান দুটি সম্প্রদায় লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগাদের ওপর। মূলত তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের রাজনীতি এখানে মুখ্য। যেমন বিজেপি বরাবর লিঙ্গায়েতদের সমর্থন পেয়েছে, ভোক্কালিগাদের মধ্যে তাদের সমর্থন কম।

অন্যদিকে কংগ্রেস যে শুধু ভোক্কালিগাদের সমর্থন পায় তা নয়। তাদের দলে বড় কয়েকজন ভোক্কালিগা নেতাও আছেন। ফলে ওই সম্প্রদায়ের সিংহভাগ ভোট দিন শেষে কংগ্রেসই পায়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কর্ণাটকে এ বিরোধ ঘোচাতেই বিজেপি হিন্দু-মুসলিম ভোট রাজনীতিতে নেমেছিল। তাদের আশা ছিল দিন শেষে ওই দুই সম্প্রদায় এক হয়ে সব ভোট তাদের দেবে। এ ধরনের কাজ তারা এর আগে উত্তর প্রদেশে করেছে। সেখানে সফলও হয়েছে।

বেঙ্গালুরুর প্রবীণ রাজনীতি বিশ্লেষক সুগত শ্রীনিবাসারাজু বিবিসিকে বলেন, ‘রাজ্যের বোম্বাই সরকার ঠিক একই ধরনের লক্ষ্য নিয়ে গত দু-তিন বছরে একের পর এক মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে হিন্দুত্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে গেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো দক্ষিণ কর্ণাটকে গত বছরের হিজাববিরোধী আন্দোলন।’

তবে শেষ পর্যন্ত কর্ণাটকে সফল হয়নি বিজেপি। এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব মাইসোরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মুজফফর আসাদি বলেন, ‘কর্ণাটকের মাটিতে বিজেপির এই সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি কাজ করবেÑ এটা চিন্তা করাটাই ভুল ছিল। আসলে কর্ণাটকে সাম্প্রদায়িকতা বিষয়টা নেই। এ রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি শান্তিতে বাস করছে বহুকাল ধরে, এমনকি রাজ্যে তেমন কোনো বড় দাঙ্গার ইতিহাসও নেই।’

অধ্যাপক আসাদি আরও বলেন, টিপু সুলতান হিন্দুবিদ্বেষী ছিলেনÑ এমনটা বললে এখানে মানুষ তা বিশ্বাস করবে না। মহীশূরের লোকজন তাকে সব সময় পরধর্মসহিষ্ণু শাসক হিসেবেই জেনে এসেছে।

এদিকে, কর্ণাটক দখলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তারা সরাসরি বোম্বাই সরকারের প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে। কংগ্রেস বলছে, প্রতিটি কাজের জন্য শতকরা ৪০ ভাগ ‘কমিশন’ বা ঘুষ নিয়ে থাকে ওই সরকার। জনসভাগুলোয় রাজ্য সরকারকে ‘৪০ পার্সেন্ট গভর্নমেন্ট’ বলে লাগাতার আক্রমণও করছে তারা।

দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঈশাদৃতা লাহিড়ি বলছেন, ‘কংগ্রেস কর্ণাটকে আদানির মতো বিষয়ে নয়; রাজ্যের স্থানীয় ইস্যুতে জোর দিচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে মানুষ সহজেই রিলেট করতে পারবে।’

কংগ্রেস নেতারা দাবি করছেন, ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভায় তারা অনায়াসেই ১৪০ বা তার চেয়ে বেশি আসন পাবেন। এমনকি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে অন্য বিরোধী দলের ভরসায়ও থাকতে হবে না। আদতেও কী ঘটতে চলেছে তা জানা যাবে অচিরেই, ভোটের পর।

সূত্র : বিবিসি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা