প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৪১ পিএম
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বড় ধরনের সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। দুই দিনব্যাপী সংঘাতে উভয়পক্ষ তাদের ১৫৫ জন সেনা হারিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে আর্মেনিয়া। তবে এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি আজারবাইজান।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আরমেন গ্রিগরিয়ান টেলিভিশনে দেওয়া মন্তব্যে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এর আগে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে সোমবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই তা ভেস্তে চলে যায়।
গ্রিগরিয়ানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েরেভানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, তারা সীমান্তে গোলাবর্ষণ বন্ধ করেছে। তবে এ সময়ে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
আজারবাইজানও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কিছু বলেনি।
আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজারবাইজানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গোরিস, সোক ও জেরমুক শহরে আর্মেনিয়ার সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ‘ব্যাপকমাত্রায় গোলাবর্ষণ’ শুরু করে। এ সময় বাকু ড্রোনের পাশাপাশি কামান ও ভারী অস্ত্রেরও ব্যবহার করে।
সীমান্ত নিয়ে ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বশেষ সংঘাত। তবে নতুন করে সংঘর্ষের জন্য উভয়পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে।
সে সময় আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আর্মেনিয়াকে দাশকেসান, কেলবাজার ও লাচিন জেলার সীমান্তের কাছে ‘বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
দুই দিনের সংঘাতের পর আজ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানান, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর তার দেশের ১০৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। আজারবাইজান জানিয়েছে তাদের ৫০ জন সেনা মারা গেছেন।
এদিকে সীমান্ত সংঘাতের ঘটনায় আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে দায়ী করে রাজধানী ইয়েরেভানের রাস্তায় বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ।
প্রবা/এনএস/এমজে