প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:২৬ পিএম
আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:২৩ পিএম
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত
কোভিড মহামারি চলাকালে নিজের সরকারি বাসভবনের সৌন্দর্যায়নে ৪৫ কোটি রুপি খরচ করেছেন ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
এমনই অভিযোগ তুলে কেজরিওয়ালের পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। এ ঘটনায় এবার সাফাই দিল দিল্লির শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ)।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ছাদে তিনবার ভাঙন ধরে। এর পরই পিডব্লিউডিকে ভবনের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আম আদমি পার্টির অভিযোগ, কেজরিওয়াল এবং তার মা-বাবার ঘরের ছাদ এমনকি কেজরিওয়াল যে ঘরে লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন, সেই ঘরের ছাদেও ভাঙন দেখা দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি ৮০ বছরের পুরোনো।
আম আদমি পার্টির আরও দাবি, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাড়িরও মেরামত হয়। তাতে ১৫ কোটি রুপি খরচ হয়।
এদিকে কেজরিওয়ালের বাংলো মেরামতি-সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যাচ্ছে, এ নির্মাণকাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৪৩ কোটি ৭০ লাখ রুপির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্মাণকাজ শেষ করতে মোট ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল।
সিভিল লাইনসের ৬ নম্বর ফ্ল্যাগস্টাফ রোডে অবস্থিত এ বাসভবনের পুনর্নির্মাণে মোট ছয় দফায় টাকা খরচ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত এ টাকা খরচ করা হয়েছে বলে জানা গেছে নথি থেকে।
নথি থেকে আরও জানা গেছে, বাসভবনের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনেই খরচ হয়েছিল ১১ কোটি ৩০ লাখ রুপি। মেঝেতে পাথর বসানোর জন্য খরচ হয়েছিল ৬ কোটি ২ লাখ টাকা। ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কনসালটেশন ফি বাবদ খরচ হয়েছিল ১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বাসভবনের ইলেকট্রিক ফিটিংয়ের জন্য ২.৫৮ কোটি রুপি খরচ হয়েছিল। ইলেকট্রিক ফিটিং ও অ্যাপ্লায়েন্স বাবদ খরচ হয়েছিল ২.৮৫ রুপি। ওয়ার্ডরোব ফিটিংয়ে খরচ হয়েছিল ১.৪১ কোটি রুপি। রান্নাঘর সাজাতে খরচ হয়েছে ১.১ কোটি।
কেজরিওয়ালের ক্যাম্প অফিসের পেছনে খরচ করা হয়েছে ৮.১১ কোটি রুপি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দিল্লিতে কোভিড মহামারি তুঙ্গে ছিল। সে সময় বায়ুদূষণ রুখতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে।
গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারের নিষেধাজ্ঞাই অমান্য করেছেন। এ অভিযোগের জবাবে এবার পালটা সাফাই দিল আম আদমি পার্টি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস