প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৩ ২২:০৫ পিএম
ভারতে প্রচণ্ড গরমের ফলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু ঘটছে, অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন। এর মধ্যে গত বুধবার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উষ্ণায়নের এই প্রভাবকে দেশটির আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তারা অবমূল্যায়ন করেছেন যা দেশটির উন্নয়নকে ধীর করে দিচ্ছে।
চরম উত্তাপ ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকেই বিপদে ফেলেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দেশটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তার মূল্যায়নগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় না। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দরিদ্র হ্রাস এবং দেশজুড়ে স্বাস্থ্যের উন্নতির মতো লক্ষ্যগুলোকে তীব্র তাপমাত্রা কতটা বাধাগ্রস্ত করছে সে বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক রমিত দেবনাথ বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে ভারত কতটা ঝুঁকিতে তা জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের পুনর্মূল্যায়ন করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।’
কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানোর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপমাত্রায় ভারতে বাড়তে দেখা গেছে। গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলের প্রথম দিকে ভারত ও প্রতিবেশী পাকিস্তানে ব্যাপক তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। ওই বছরেও দেশ দুটি তাপের অতীত রেকর্ড ভাঙে। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
দেবনাথ এবং গবেষকদের একটি দল বর্তমানে দরিদ্র ও ক্ষুধা দূরীকরণ এবং সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করার মতো লক্ষ্যগুলোর অগ্রগতির পরিমাপের পাশাপাশি তাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনে ভারতের ঝুঁকির মাত্রা খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন, যা জাতিসংঘের জাতির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নামে পরিচিত।
গবেষণায় বলা হয়েছে, তীব্র গরম এই লক্ষ্যগুলোতে পৌঁছনো কঠিন করে তুলবে। ভারত যে গতিতে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে গত ২০ বছরে ধীর হয়ে গেছে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে।
দেবনাথ বলেন, আর্দ্রতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকা মানুষ আসলে কতটা গরম বোধ করেন। অর্থাৎ আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে অনুভূত তাপমাত্রা। ভারতে তাপের পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হলেও অনুভূত তাপমাত্রা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে দেশটি স্বাস্থ্যের উন্নতি বা বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যগুলো পূরণের বিষয়ে মূল্যায়ন করাটাও যথার্থ নয়। তাই গবেষকেরা চরম তাপের বিষয়টি মাথায় নিয়ে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি পরিমাপ পদ্ধতির পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলজুড়ে তাপপ্রবাহ চলছে। গত রবিবার মুম্বাই শহরের উপকণ্ঠে সরকারি এক জমায়েতে হিট স্ট্রোকে মারা যায় ১১ জন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে চলতি সপ্তাহে সব স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসটি ১২২ বছরের মধ্যে দেশের উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
নয়াদিল্লিভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সহযোগী ফেলো আদিত্য ভ্যালিয়াথান পিল্লাই বলেছেন, গবেষণাটি এটাই দেখিয়েছে যে, ভারত তাপের ঝুঁকির যে মাত্রাটি বিবেচনায় নিয়েছে সেই মাত্রার ওপরেও আরেক মাত্রা রয়েছে।
সূত্র : এপি