প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:১৪ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দুই বছর পর আবারও বড় ধরনের সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। এতে আর্মেনিয়ার অন্তত ৪৯ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের যুদ্ধের পর চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বশেষ সংঘর্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে কয়েক ঘণ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষের পর বিশ্ব নেতাদের কাছে সহায়তার আবেদন জানায় আর্মেনিয়া। এ সময় আজারবাইজান বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, এ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের ৪৯ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।
আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজারবাইজান স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গোরিস, সোক ও জেরমুক শহরে আর্মেনিয়ার সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ‘ব্যাপকমাত্রায় গোলাবর্ষণ’ শুরু করে। এ সময় বাকু ড্রোনের পাশাপাশি কামান ও ভারী অস্ত্রেরও ব্যবহার করে। এর প্রতিক্রিয়াতেই ইরেভান জবাব দিয়েছে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।
অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আর্মেনিয়াকে দাশকেসান, কেলবাজার ও লাচিন জেলার সীমান্তের কাছে ‘বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব অঞ্চলে তাদের সেনাঘাঁটিতে মর্টারের হামলা হয়েছে। এতে তাদের সেনারা হতাহতের শিকার হয়েছেন। তবে সংখ্যাটি নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
আজারবাইজানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে সোমবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই তা ভেস্তে চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৯টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হলেও তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
এ দুই বিবদমান অঞ্চলের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র রাশিয়া। মস্কো নেতৃত্বাধীন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সদস্য আর্মেনিয়া সে সূত্রে দেশটি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রও বটে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, আমরা আগেই স্পষ্ট করেছি যে এ সংকটের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না। তাই আমরা অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
আজারবাইজানের কৌশলগত মিত্র তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, অবিলম্বে আর্মেনিয়ার উসকানি দেওয়া বন্ধ করা উচিত। এর পরিবর্তে আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ও সহযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।
এর আগে বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল দখলে নেওয়ার জন্য ২০২০ সালে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এ দুই দেশ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে আর্মেনিয়া আজারবাইজান সীমান্তে প্রায়ই সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
গত সপ্তাহেই আজারবাইজানের সীমান্ত হামলায় আর্মেনিয়ার এক সেনা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আগস্টে আজারবাইজান জানায়, ইরেভানের সেনাদের আক্রমণে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কারাবাখ সেনাবাহিনী জানায়, তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
আজারবাইজানে অবস্থিত আর্মেনিয়ার জনবহুল ছিটমহল নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে এ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটি যুদ্ধে জড়িয়েছে। ১৯৮০ সালের শেষদিকে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়। যখন উভয় দেশই সোভিয়েত শাসনের অধীনে ছিল। তখন আর্মেনিয়ার সেনারা নাগোর্নো-কারাবাখের নিকটবর্তী অঞ্চলের কিছু অংশ দখলে নিয়ে নেয়।
তবে এ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত কিন্তু এখানে বাস করে বিপুলসংখ্যক আর্মেনীয় জনগণ। প্রথমবারের ওই যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার লোক নিহত হন।
২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের যুদ্ধে আজারবাইজান সেই অঞ্চলগুলো আবারও নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শেষ হয় ৬ সপ্তাহব্যাপী ওই যুদ্ধ। এতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।
প্রবা/এনএস/এমজে