প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৩২ এএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫৯ পিএম
সুদানের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তিন দিনের লড়াইয়ে অন্তত ১৮৫ জন নিহত ও ১ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত
সুদানে সামরিক বাহিনী ও প্রভাবশালী আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের
(আরএসএফ) মধ্যে চলমান সংঘাতে সোমবার (১৭ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের
ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইইউ ব্লকের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেফ বোরেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জোসেফ বোরেল এক টুইটবার্তায় জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত নিজের বাসভবনেই হামলার
শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এ ঘটনায় কোন পক্ষ দায়ী, তাও এখনও
স্পষ্ট নয়। এমনকি হামলায় রাষ্ট্রদূত আহত হয়েছেন কি না তাও কেউ নিশ্চিত করেনি।
বোরেল কেবল হামলার ঘটনাটিকে নিশ্চিত করে একে ভিয়েনা কনভেনশনের চরম লঙ্ঘন
হিসেবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে
আয়োজক দেশেরই দায়িত্ব।’
যদিও এ হামলার ২ ঘণ্টা আগে অন্য এক টুইটবার্তায় তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মানবিক কারণে এবং সংলাপকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিটি পক্ষকে রাজি করাতে কাজ করছে। তিনি
সে টুইটে জোর দিয়ে বলেন, ‘বেসামরিক সুদানি নাগরিকদের জরুরিভাবে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।’
এর আগে একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, সুদানে যুক্তরাষ্ট্র
দূতাবাসের একটি গাড়িতেও হামলা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সূত্র সংবাদমাধ্যমকে
জানিয়েছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাঁজোয়া যান লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের গাড়িটি লক্ষ করে ইচ্ছাকৃতভাবে শতাধিক
রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তিন কর্মী সহিংসতায় নিহত হওয়ার পর
দেশটিতে সংস্থাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে সুদানের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তিন দিনের লড়াইয়ে অন্তত ১৮৫
জন নিহত ও ১ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ
প্রতিনিধি ভলকার পার্থেস।
তিনি সোমবার (১৭ এপ্রিল) এ হতাহতের বিষয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়েও শঙ্কা
প্রকাশ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেলদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর
সহিংসতার বিষয়ে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের ভিডিওকলে ভলকার বলেন, ‘এটি খুবই তরল পরিস্থিতি,
তাই ভারসাম্য কোথায় যাছে বলা কঠিন। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না, লড়াইরত পক্ষগুলো
এখনই তাদের মধ্যে শান্তির জন্য মধ্যস্থতা চায়।’
তেলসমৃদ্ধ আফ্রিকার এ দেশটিতে সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের
অনুগত সেনা ইউনিট এবং ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালের নেতৃত্বে আধাসামরিক
বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব থেকেই এ সংঘাতের সূত্রপাত।
দুই বাহিনীর সংঘাত এরই মধ্যে চার দিনে এসে পড়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলার মুখে বিভিন্ন জায়গা থেকে হাত গোটাচ্ছে আরএসএফ। কিন্তু কিছু জায়গায় এখনও তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতির নতুন রূপরেখা হাজির করা না গেলে চলমান সংকট সমাধান করা যাবে না বলে মনে করেন দেশটির রাজনীতিবিদরা।
সূত্র : রাশিয়া টুডে