প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:১০ এএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১২:২২ পিএম
সুদানে সংঘাত বন্ধে কোনো মীমাংসার পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। ছবি : সংগৃহীত
সুদানের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তিন দিনের লড়াইয়ে অন্তত ১৮৫ জন নিহত
ও ১ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি
ভলকার পার্থেস।
তিনি সোমবার (১৭ এপ্রিল) এ হতাহতের বিষয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়েও শঙ্কা
প্রকাশ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেলদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর
সহিংসতার বিষয়ে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের ভিডিওকলে ভলকার বলেন, ‘এটি খুবই তরল পরিস্থিতি,
তাই ভারসাম্য কোথায় যাছে বলা কঠিন। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না, লড়াইরত পক্ষগুলো
এখনই তাদের মধ্যে শান্তির জন্য মধ্যস্থতা চায়।’
তেলসমৃদ্ধ আফ্রিকার এ দেশটিতে সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের
অনুগত সেনা ইউনিট এবং অন্যদিকে ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালের নেতৃত্বে আধাসামরিক
বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব থেকেই এ সংঘাতের সূত্রপাত।
দুই বাহিনীর সংঘাত এরই মধ্যে চার দিনে এসে পড়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলার মুখে বিভিন্ন জায়গা থেকে হাত গোটাচ্ছে আরএসএফ। কিন্তু কিছু জায়গায় এখনও তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতির নতুন রূপরেখা হাজির করা না গেলে চলমান সংকট সমাধান করা যাবে না বলে মনে করেন দেশটির রাজনীতিবিদরা।
সুদানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাটিক ব্লক অব ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের নেতা মহিউদ্দিন ইব্রাহিম বলেন, ‘দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সমঝোতা দিয়ে উদ্ভূত সংকট সমাধান করা যাবে না। এ সংকট সমাধানে জাতীয় সম্মতি দরকার। এজন্য প্রয়োজন রাজনীতির নতুন রূপরেখা, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকবে।’
মহিউদ্দিন ইব্রাহিমের মতে, ২০১৯ সালে সামরিক শাসক ওমর আল-বাশারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যেসব রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, আজ তাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের উপেক্ষা করে চলতি সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতাদের সহিংসতা বন্ধের জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সুদান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, চলমান সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই মূল ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি তাদের ওপর যেসব পক্ষের প্রভাব রয়েছে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সংঘাত এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা আরও বাড়লে সুদান ও আফ্রিকার ওই অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়ংকর।
এদিকে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান আরএসএফকে বিদ্রোহী গ্রুপ ঘোষণা করে সোমবার এক বিৃবতি দিয়েছেন এবং প্যারামিলিটারি গ্রুপটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা