প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
ভ্লাদিমির কারা-মুর্জা। ছবি : আলজাজিরা
রাশিয়ার একটি আদালত সোমবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং সেনাবাহিনীকে হেয় করার দায়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তথা ক্রেমলিনের সমালোচক ভ্লাদিমির কারা-মুর্জাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
ইউক্রেন আক্রমণ করার পরে মস্কো ঘোষিত এটিই সবচেয়ে কঠোর শাস্তি।
গত ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দেওয়া বক্তৃতা থেকে কারা-মুর্জার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনা হয়, যেখানে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা করেছিলেন।
হেফাজতে থাকাকালীন তদন্তকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও যোগ করেন তার বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পরপরই রাশিয়া তার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক আইন পাস করে।
৪১ বছর বয়সি তিন সন্তানের পিতা কারা-মুর্জা রাশিয়ার এবং ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী একজন বিরোধী রাজনীতিবিদ।
তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পশ্চিমা সরকারগুলোর সঙ্গে লবিং করেছেন।
ব্রিটিশ সরকার সোমবার (১৭ এপ্রিল) কারা-মুর্জার বিরুদ্ধে ওই রায়কে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে নিন্দা জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সিএনএনে প্রচারিত সাক্ষাত্কারে কারা-মুর্জা অভিযোগ করেছিলেন যে, রাশিয়া একটি ‘হত্যাকারী শাসন ব্যবস্থা’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি ইউক্রেনে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার জন্য মস্কোকে অভিযুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপজুড়ে বক্তৃতাও করেছিলেন।
গত সপ্তাহে আদালতে তার চূড়ান্ত বক্তৃতায় কারা-মুর্জা তার নিজের বিচারকে ১৯৩০ সালের জোসেফ স্টালিনের শো ট্রায়ালের সাথে তুলনা করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘যা করেছে অপরাধীদের তার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা। অন্যদিকে, আমি আমার রাজনৈতিক মতামতের জন্য কারাগারে আছি। আমি এটাও জানি যে, এমন দিন আসবে যখন আমাদের দেশের অন্ধকার কেটে যাবে।’
সেনাবাহিনীকে ‘অসম্মানিত’ করার জন্য রাশিয়ায় বর্তমানে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এই বাহিনী সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২০১৫ সালে এবং ২০১৭ সালে কারা-মুর্জা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত সুস্থ হওয়ার আগে কোমায় পড়েছিলেন।
তখন তিনি বলেছিলেন যে, তাকে রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষেবাগুলোর দ্বারা বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। কারা-মুর্জার আইনজীবীরা বলেছেন যে ফলস্বরূপ, তিনি পলিনিউরোপ্যাথি নামক একটি গুরুতর স্নায়ু ব্যাধিতে ভুগছেন।
সূত্র : আলজাজিরা