প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ২১:০৮ পিএম
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং আরব লীগে দেশটিকে ফিরিয়ে
আনার সম্ভাবনা নিয়ে ৯টি আরব দেশের প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে আলোচনা করছে।
সৌদি আরবের অনুরোধে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) মিসর, ইরাক ও জর্ডানের সঙ্গে
বৈঠকে যোগ দিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি আরব দেশ বাহরাইন, কুয়েত,
ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছেন।
এটি মূলত সৌদি আরবের আগ্রহের কারণেই হচ্ছে। কারণ দেশটির যুবরাজ ও
কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) যে ভিশন ২০৩০ রয়েছে, তা বাস্তবায়নে স্থিতিশীল
মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প নেই।
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমাত্রিক অর্থনীতিতে পদার্পণে বিদেশি
বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ছাড়া এমবিএসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর অস্থিতিশীল
মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।
এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে জোর তৎপরতা শুরু
করেছে তারা। শান্তি আলোচনা চলছে হুথিদের সঙ্গেও। বন্দি বিনিময়ের ঘটনাও হয়েছে। আর শান্তির
এই নতুন বার্তায় সিরিয়াকেও বাইরে রাখতে চাইছে না সৌদি।
দামেস্কের সঙ্গে সরাসরি রিয়াদের বিমান চলাচল, কনস্যুলার সেবা চালু,
শরণার্থী প্রত্যাবর্তন, সিরিয়ার ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে রাজনৈতিক
সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়গুলো নিয়ে সিরিয়ার সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে সৌদি আরব।
এর আগে ২০১১ সালে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে দেশটিতে আন্দোলন এক সময়
গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। সে সময় আরব লীগে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি সৌদিসহ অন্য আরব দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আসাদবিরোধীদের
সমর্থন দেয়।
ইরান ও রাশিয়ার সহায়তায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আসাদ সরকার ক্ষমতায় টিকে
যায়। এক সময় আসাদবিরোধীদের সমর্থন দিলেও এখন বাকি আরব দেশগুলোও চাইছে সিরিয়ার সঙ্গে
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। এরই মধ্যে চলতি বছরেই বাশার আল আসাদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও
ওমান সফর করেছেন।
গত বুধবার (১২ এপ্রিল) দীর্ঘ ১২ বছর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফয়সাল মেকদাদ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের আমন্ত্রণে দেশটিতে এসেছিলেন।
সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল খুরাইজি জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে তাকে
স্বাগত জানান।
সূত্র : আলজাজিরা