প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:০৫ এএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:৫২ এএম
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পুরো পক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিম ও তার কন্যা কিম জু-এ। ছবি : আলজাজিরা
উত্তর কোরিয়া তার প্রথম কঠিন জ্বালানিসমৃদ্ধ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।
এজেন্সিটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপিত ওই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নাম হাওয়াসং-১৮।
দেশটির নেতা কিম জং উনের আরও উন্নত এবং শক্তিশালী অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার লক্ষ্য থেকেই এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) ওই পরীক্ষাটি শনাক্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান।
আতঙ্কিত হয়ে জাপান তার উত্তর দ্বীপ হোক্কাইডোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সে সময়।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পুরো পক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিম ও তার কন্যা কিম জু-এ।
কেসিএনএ এই পরীক্ষাকে একটি ‘অলৌকিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, ‘হাওয়াসং-১৮ একটি নতুন ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। গত বৃহস্পতিবার কৌশলগত সামরিক শক্তির মূল উপায় হিসেবে এটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।’
বার্তা সংস্থা কিমকে উদ্ধৃত করে বলেছে, হাওয়াসং-১৮ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত অগ্রসর করবে এবং একটি আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশলকেও আরও সমর্থন করবে, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কেসিএনএ বলেছে, ‘দেশের কৌশলগত বাহিনী দ্বারা চালিত হাওয়াসং-১৮ অস্ত্র ব্যবস্থাটি উত্তর কোরিয়াকে রক্ষা, আক্রমণ রোধ এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে তার মিশন এবং ভূমিকা পালন করবে।’
কিমের ২০২১ সালে উন্মোচিত পাঁচ বছরের অস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি মূল অংশ ছিল কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসংখ্য উৎক্ষেপণ চালিয়েছে। কারণ পিয়ংইয়ং তার সামরিক শক্তিকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য পরিচালিত সংস্থা কার্নেগি এনডাউমেন্টের বিশেষজ্ঞ অঙ্কিত পান্ডা বলেছেন, ‘এটি উত্তর কোরিয়ানদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, তবে একটি অপ্রত্যাশিত নয়৷’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরির সময় জ্বালানি দেওয়া হয় এবং এভাবে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত, তাই এগুলো সংকট বা সংঘাতে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য হবে। এটি দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে হামলার জন্য কার্যকর হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করুন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকে কিম এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি হাইপ্রোফাইল শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
উত্তর কোরিয়া চলতি বছর প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা