প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫০ এএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
গত বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে সফর করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের তৈরি বেশ কিছু গোপন নথি ফাঁস হয়ে যায় কদিন আগে। যা থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও নজরদারির বিষয়টি সামনে আসে। এবারে ফাঁস হওয়া নথিতে জানা যায়, জাতিসংঘ প্রধানের ওপর নজরদারি করেছে ওয়াশিংটন।
নথিতে বলা হয় : যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বাস করে যে জাতিসংঘ মহাসচিব রাশিয়ার দাবিদাওয়া মেনে নিতে খুব আগ্রহী ছিলেন। যে কারণে জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে তারা।
এ নথিতে গুতেরেস ও তার ডেপুটির মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথনও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের যুদ্ধ ও আফ্রিকার বেশ কয়েকজন নেতার বিষয়ে গুতেরেসের পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয় নথিতে।
একটি ফাঁস হওয়া নথিতে কৃষ্ণসাগরে শস্য চুক্তির ওপর আলোকপাত করা হয়। গত বছরের জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ওই চুক্তি হয়েছিল।
নথিতে বলা হয় : ওই চুক্তিটি রক্ষা করতে গুতেরেস এতটাই তৎপর ছিলেন যে তার জন্য তিনি রাশিয়ার সব দাবিদাওয়া মানতেও খুব আগ্রহী ছিলেন। তিনি রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানি বাড়াতেও বেশ জোর দিয়েছিলেন। আর তার জন্য গুতেরেস নিষেধাজ্ঞা পাওয়া রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতেও রাজি ছিলেন।
এ ছাড়া নথিতে অভিযোগ করা হয় : চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের কিছু কর্মকাণ্ডে ‘ইউক্রেনে সংঘটিত অপরাধের জন্য মস্কোকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করতে দেখা যায়।’
তবে জাতিসংঘ প্রধানের ওপর রাশিয়ার প্রতি নরম আচরণ করার মতো অভিযোগ আনায় এর প্রতিবাদ জানান একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোয় যাতে খাদ্য ও সারের অভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করতেই ওই চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে তৎপর ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
গুতেরেসের প্রচেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যায় জাতিসংঘের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, জাতিসংঘ প্রধান যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ফাঁস হওয়া আরেকটি নথিতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি গুতেরেস ও তার ডেপুটি আমিনা মোহাম্মদের মধ্যে কথোপকথনের উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেছিলেন ইউরোপের উচিত আরও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করা। ওই নথিতে বলা হয়, গুতেরেস ও আমিনার কথোপকথনে লেয়েনের এ আহ্বানে ‘হতাশা’ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
আফ্রিকার দুজন নেতার সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়েও কথা বলেছেন তারা। সেখানে আমিনা মোহাম্মদ বলেন, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো ‘নির্মম’ এবং তিনি ‘তাকে বিশ্বাস করেন না।’
সূত্র : বিবিসি