প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৩০ পিএম
আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫০ পিএম
পেন্টাগনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
বিচার বিভাগ সংস্কারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলজুড়ে সৃষ্টি হওয়া নজিরবিহীন বিক্ষোভে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। যদিও এ দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে একটি গোপন নথি ফাঁস হয়। তাতে ইসরায়েলে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে মোসাদের শীর্ষ নেতারা মানুষজনকে উৎসাহিত করেছে বলে দাবি করা হয়। মূলত মোসাদের নেতারা সরাসরি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংকটে জড়ান না।
শনিবার (৮ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ১ মার্চের একটি আপডেট রিপোর্ট প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। তাতে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করে। আর সে বিক্ষোভে মোসাদের কর্মী ও ইসরায়েলি নাগরিকদের যোগ দিতে উৎসাহিত করেছেন খোদ মোসাদের নেতারা।
তবে সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ফাঁস হওয়া নথিগুলো খাঁটি বলে মনে হলেও এ তথ্যগুলো যে সঠিক তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। রবিবার কার্যালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেদনটি ‘মিথ্যে ও ভিত্তিহীন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মোসাদ এবং এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এজেন্সি কর্মীদের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে উৎসাহিত করেনি এবং করবেও না।’
গত বছরের শেষের দিকে কট্টর-ডান ও ধর্মীয় দলগুলোর সমন্বয়ে জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিচারিক সংস্কারের জন্য নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা অভূতপূর্ব বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আর ইসরায়েলের এ পরিস্থিতি তাদের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিক্ষোভকারীদের মতে, নেতানিয়াহু এবং তার ডানপন্থি ও ধর্মীয় মিত্ররা পার্লামেন্টে এমন আইন পাস করতে যাচ্ছেন, যা আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পুরোনো অভিযোগও রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে এর আগে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হয়েছিল। সমালোচকরা বলছেন, তাই ফের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শুরুতেই তিনি আদালতের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে চাইছেন, যা সাধারণ ইসরায়েলিরা মানতে মোটেও রাজি নয়।
টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিক্ষোভের পর নেতানিয়াহু মার্চের শেষের দিকে এ সংস্কার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এ ছাড়া তিনি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি হন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার বলেছে, তারা প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং নথিপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।
সূত্র : আলজাজিরা