প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:০৩ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
বৃহস্পতিবার মন্ট্রিয়েলের রোজমন্টের আশপাশের বিদ্যুতের লাইন মেরামত করছেন এক কর্মী। ছবি : সিবিসি
তুষারঝড়ের দুই দিন পরও শুক্রবার (৭ এপ্রিল) কানাডার পূর্বাঞ্চলের কয়েক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
ভয়াবহ ওই দুর্যোগে তিনজনের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মন্ট্রিয়েলে ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।
কুইবেকেরও প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ছিল।
অঞ্চলটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা হাইড্রো-কিউবেক জানিয়েছে, বিভ্রাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হয়েছে।
পরিষেবা সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘আমাদের দলগুলো কঠোর পরিশ্রম করছে এবং আমরা নিশ্চিত যে শনিবার দিনের শেষে আরও ২ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ ফিরে পাবেন।’
হাইড্রো-কিউবেকের মুখপাত্র রেজিস টেলিয়ার বলেছেন, ‘তবে কিছু বাড়ি রবিবার বা সোমবার পর্যন্ত বিদুৎবিহীন থাকবে। অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে।’
কুইবেকের রাজ্যপ্রধান ফ্রাঁসো লেগল্ট বলেছেন, মন্ট্রিয়েলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় একজনের মৃত্যু হয়। তিনি তার ঘরে বারবিকিউ তৈরি করার সময় কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মারা যান।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে কুইবেকের ৬০ বছর বয়সি এক বাসিন্দা জমি পরিষ্কার করতে গিয়ে গাছের ডাল পড়ে মারা যান।
প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থাকা মন্ট্রিয়েলে ছয়টি অস্থায়ী জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ঝড়টি কানাডার দুটি সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য কুইবেক ও অন্টারিওকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মন্ট্রিয়েলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিবারগুলো উষ্ণ রাখার জন্য ঘরের ভেতরে বারবিকিউ ব্যবহার করায় কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার প্রায় ৬০টি খবর পেয়েছেন।
মন্ট্রিয়েল নগরীর শত শত কর্মচারী এখনও শুক্রবারের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছেন।
এদিকে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছগুলো কাঁপছে। শাখা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ এখনও মানুষকে বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
১৯৯৮ সালে কুইবেকে তুষারঝড়ের পর এ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই দুর্যোগ রাজ্যটিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশৃঙ্খলায় ফেলে।
সূত্র : সিবিসি