প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:৫১ এএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫৪ এএম
হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস এয়ারফোর্সের বিমানে ওঠার আশায় অপেক্ষমাণ প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ছবি : গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এক নতুন প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খলভাবে সেনা প্রত্যাহারের জন্য তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছে।
প্রতিবেদনটির ১২ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোর বিপরীতে ‘গুরুতরভাবে অপ্রস্তুত’ ছিলেন বাইডেন। ওই সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তালেবানের সঙ্গে ২০২০ সালের চুক্তি।
তবে প্রতিবেদনে এও স্বীকার করা হয়েছে যে, সরকারের আরও আগেই আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করা উচিত ছিল।
ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, হোয়াইট হাউস একটি ‘গুজবের খেলা’ খেলছে।
২০২১ সালের আগস্টে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি লোককে সরিয়ে নিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলায় ১৩ মার্কিন সেনা এবং ১৭০ আফগান নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং পেন্টাগন দ্বারা পরিচালিত প্রত্যাহারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং কর্মের একটি পর্যালোচনা বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) কংগ্রেসে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানরা ওই সেনা প্রত্যাহারের তদন্ত করছে এবং তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবেদনটি দেখার দাবি জানিয়ে আসছিল।
নথিটি গোপনীয় বলেই এর একটি সারসংক্ষেপ হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নিজেই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বক্তব্যসহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে।
যখন আফগান সরকারের পতন ঘটে, তখন কাবুল বিমানবন্দরের দৃশ্য অভাবনীয় ছিল। কারণ বিশাল জনতা তালেবানদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল।
গত ২৬ আগস্ট বিমানবন্দরে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর হামলায় ১৭০ আফগান ও ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিন পর ওই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীকে লক্ষ করে কাবুলে একটি ড্রোন হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন হামলায় সাত শিশুসহ ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।
ব্রিটিশ সেনারাও প্রত্যাহারের কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস বলেছেন, হঠাৎ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সে সময় যুক্তরাজ্যকে ‘খুব কঠিন অবস্থানে’ ফেলেছিল।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি আফগানিস্তানে সেনা প্রত্যাহারে বিশৃঙ্খলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অবহেলা এবং কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অবক্ষয়’ উল্লেখ করা হয়েছে।
কিরবি বলেছেন, এক বছর আগে কাতারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের জন্য চুক্তির অধীনে ট্রাম্পের মেয়াদে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হাজার হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্ত করা, এবং আফগান মিত্রদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ভিসা প্রোগ্রামের বাইরে।
ট্রাম্প প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউস একটি নতুন গুজবের খেলা খেলছে। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে তাদের লজ্জজনক আত্মসমর্পণের জন্য বাইডেন দায়ী, অন্য কেউ নয়!
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান মাইকেল ম্যাকওলও ‘আফগানিস্তানে তাদের ব্যর্থতার নির্লজ্জ হোয়াইটওয়াশিং’-এর জন্য প্রশাসনের নিন্দা করেছেন।
সূত্র : বিবিসি