প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ২২:০১ পিএম
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার পরপরই তার নির্বাচনী শিবিরও যেন উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছে। তার সমর্থনকারীরা সাড়া দেওয়া শুরু করেছেন। তিনিও জোরেশোরে তহবিল সংগ্রহ করছেন। এমনকি রিপাবলিকান প্রাইমারি, অর্থাৎ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়েও ট্রাম্প এগিয়ে গেছেন।
ফক্স নিউজ বলছে, হয়তো এটাই চান ডেমোক্র্যাটরা। কারণ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। তিনি পুনরায় নির্বাচনের দৌড়ে শামিল হলে হয়তো ভরাডুবির ঘটনা ঘটবে ডেমোক্র্যাটদের। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে ট্রাম্পের বিপরীতে দাঁড়ানো। যদিও সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, বাইডেনের চেয়েও এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। আর এর নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে অর্থনীতি, অভিবাসন এবং অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান।
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প যখন ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার ঘোষণা দেন, তখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ ছিল সেটি। অনেকে খেয়ালই করেননি ট্রাম্পের ঘোষণা। অল্প কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তার সমাবেশের খবর প্রচার করেছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস যখন প্রতি মাসে নতুন ভোটারের সমর্থন পাচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্প নিজ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু তাকে সে পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করল নিউইয়র্কের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা। পুরোদমে আলোতে চলে এলেন তিনি। ফের যেন প্রাণ ফিরে পেল তার প্রচারণা।
ওই মামলার অভিযোগপত্র মার্কিনিদের কার্যত দলীয় সীমারেখার প্রান্ত ধরে ভাগ করে দিয়েছে। মার্চ হার্ভার্ড ক্যাপস/হ্যারিস জরিপের তথ্যানুসারে, ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট অভিযোগের পক্ষে, আর ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান অভিযোগের বিপক্ষে। এমনকি কোনো দলে যারা নেই, তারাও অভিযোগ প্রশ্নে ৫১-৪৯ শতাংশে বিভক্ত। তবে বেশিরভাগ মার্কিনিই মনে করেন, এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ট্রাম্প একপর্যায়ে এ থেকে রেহাই পাবেন।
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট দৌড়ে শামিল হওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও দলীয় সীমারেখায় দ্বিধাবিভক্ত মার্কিনিরা। মার্চ হার্ভাড ক্যাপস/হ্যারিস জরিপের তথ্যানুসারে, ৬৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করছেন অভিযোগের ঘটনায় তার প্রার্থিতার পর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকান বলছেন, এটি তাকে সহায়তা করবে।
মূল প্রভাবটি নির্ভর করবে ট্রাম্প কতটা সুনিপুণভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, সেটির ওপর। এরই মধ্যে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সে বক্তব্যে যতটা না নির্বাচনী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
ট্রাম্প যে সমর্থকদের প্রতিবাদে মাঠে নামতে বলেছেন, সেটির বিরোধিতা করেছেন দুই দলের বেশিরভাগ মার্কিনি। তিনি আরও বেশি সমর্থন হারাতে পারেন, যদি ৬ জানুয়ারির মতো কিছু হতে দেখা যায়।
ট্রাম্প অভিযুক্ত হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিসের। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে নিজ নির্বাচনী প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করেছেন, কিন্তু খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি জোর দিচ্ছেন সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতার ওপর।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন বলছে, ডেসান্টিসের ফ্লোরিডার নির্বাচনে আবার জয়লাভ করার কারণ হলো তিনি কোভিড ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছেন। ফলে নির্বাচনে জিততে হলে তাকে ট্রাম্পের চেয়ে ভিন্ন কিছু করতে হবে, পার্থক্য গড়ে নিতে হবে, তার নকল করার চেষ্টা করলে হবে না।
সূত্র : ফক্স নিউজ