প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৪৫ এএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৩৬ পিএম
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আল-আকসা কম্পাউন্ডের কাছে অবস্থান নেয় ইসরায়েলি পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
জেরুজালেমের মুসলিমদের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে ফের সহিংসতা শুরু হয়েছে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে ওল্ড সিটির সংবেদনশীল প্রাঙ্গণে আল-আকসা মসজিদের ভেতরে ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা নিজেদের ব্যারিকেড তৈরি করলে ইসরায়েলি পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য বলপ্রয়োগ করলে ফের সহিংসতা শুরু হয় বলে জানা গেছে।
তবে সহিংসতার পরিমাণ প্রথমবারের তুলনায় কম ছিল বলে জানা গেছে। এদিকে গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনা চলমান সহিংসতাকে উস্কে দেবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা সহিংসতায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। কম্পাউন্ডটি পরিচালনাকারী ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ বলেছে, ‘শত শত আইন ভঙ্গকারী কিশোর’ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এরা পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে ঢিল ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে তাদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
এ ছাড়া ওয়াকফের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাতভর মসজিদের ভেতরে প্রার্থনার জন্য অনেক ফিলিস্তিনি মসজিদের ভেতরে জড়ো হয়েছিলেন।
মসজিদের প্রবেশপথের একটি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে মসজিদ কম্পাউন্ড থেকে বের করে আনতে দেখা যায়।
বুধবারের সকালে আল-আকসা মসজিদে প্রথম দফা হামলা চালায় ইসরায়েলি পুলিশ।
বুধবারের ওই সহিংসতা শান্ত হয়ে এসেছিল, কিন্তু সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা গাজা থেকে ইসরায়েলে দুটি রকেট নিক্ষেপ করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এর একটি গাজার ভেতরে এবং অন্যটি ইসরায়েল ও গাজার নিরাপত্তা বেড়ার কাছে পড়ে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, আল-আকসা মসজিদটি ইহুদি ও মুসলমান উভয়ের জন্য পবিত্র। এটি একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।
আল-আকসা হলো ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান, যা ইহুদিদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত।
ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এর আগে সতর্ক করেছিল যে, আরও সংঘাত আসছে। তবে একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উন্নয়নে মিসর, জর্ডান, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার প্রশাসন পবিত্র স্থানে ‘উত্তেজনা প্রশমনের’ জন্য কাজ করছে।
মসজিদ কম্পাউন্ড থেকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, পুলিশ লাঠি, চেয়ার, রাইফেলসহ অন্য যা পেয়েছে তাই দিয়েই নারী, শিশুসহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এরপর তারা পাথর ছুড়ে এবং সন্ধ্যার নামাজের জন্য আনা আতশবাজি নিক্ষেপ করে প্রতিক্রিয়া জানায়।
মসজিদের গেটের বাইরে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট দিয়ে যুবকদের ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি পুলিশ বলেছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট এবং ভিডিওগুলো নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি যেখানে তাদের অফিসারদের ফিলিস্তিনিদের মারধর করতে দেখা যাচ্ছে।
তবে ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। তারা আরও জানান, তাদের এক কর্মকর্তা পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
সূত্র : আরব নিউজ