প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:১৯ এএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৩ পিএম
রাশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা আলেক্সাই নাভালনি বর্তমানে জেলবন্দি। ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নিয়ে উত্তাল গোটা বিশ্ব। কিন্তু মস্কোর সরকারি কার্যকলাপ নিয়ে একেবারে চুপ রাশিয়ার বিরোধী দলগুলো। গত এক বছরে যুদ্ধ নিয়ে টুঁশব্দটিও করেনি কেউ! কিন্তু কেন?
বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা হলো, রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে যাওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। যারা একসময় তার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তারা হয় জেলবন্দি হয়েছেন, নয়তো নির্বাসিত। অনেককে মেরেও ফেলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, শাসনকালের শুরুতে পুতিন প্রথমেই রাজনৈতিক উচ্চাশা আছে এমন রুশ ধনকুবেরদের ক্ষমতায় রাশ টানেন। উদাহরণস্বরূপ রুশ তেল সংস্থা ‘ইউকোস’-এর প্রধান মিখাইল খোদোরকোভস্কির কথাই বলা যাক।
কর ফাঁকি, চুরি এবং বিরোধী দলগুলোকে অর্থ সাহায্যের অভিযোগে ২০০৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১০ বছর জেল খাটার পরে মুক্তি পেয়ে রাশিয়া ত্যাগ করেন মিখাইল।
আরেক রুশ ধনকুবের বরিস বেরেজোভস্কি একসময় পুতিনকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু পরে পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হলে দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে চলে যেতে বাধ্য হন। ২০১৩ সালে সেখানেই মারা যান।
রাশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা আলেক্সাই নাভালনি বর্তমানে জেলবন্দি। জেল থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের বিরুদ্ধে সরব হন।
নাভালনি বলেছেন, জঘন্য অপরাধ, আগ্রাসনের নামে যুদ্ধ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছেন পুতিন।
২০১০ সালের দিকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন নাভালনি। সে সময় তার সরকারবিরোধী সমাবেশে অসংখ্য মানুষ যোগ দিত। একটি দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানকে ২০২১ সালে চরমপন্থি সংগঠন বলে ঘোষণা করে রুশ সরকার। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে অভিযোগ তুলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সংগঠনটিকে।
২০২০ সালের আগস্টে সাইবেরিয়া সফরের সময় নাভালনিকে নোভিচক নামে একধরনের বিষ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। সে যাত্রায় কোনোমতে বেঁচে ফেরেন তিনি।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় ফেরেন নাভালনি। তার দেশে ফেরায় বিরোধীরা অনেকটাই উজ্জীবিত হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরই জালিয়াতি ও আদালত অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপরে নাভালনির সহযোগীরা বিদেশে পালিয়ে যান।
পুতিনের আরেক সমালোচক ইলয়া ইয়াশিন। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের এপ্রিলে তিনি একটি লাইভ স্ট্রিমিং করেছিলেন। তাতে বলেছিলেন, ‘এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ঘাতক পুতিন। এর পরে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাড়ে আট বছরের কারাদণ্ড হয় ইয়াশিনের।
একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রুশ সাংবাদিক তথা সমাজকর্মী ভ্লাদিমির কারা-মুরজাকে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে দুবার রহস্যজনকভাবে বিষ দেওয়া হয়েছিল এই সাংবাদিককে। এবার ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। অভিযোগ প্রমাণ হলে ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে কারা-মুরজার।
রাশিয়ায় পুতিন-বিরোধিতার এমন অসংখ্য নিদর্শন। সম্প্রতি এক রুশ গায়কের গান যুদ্ধের স্লোগান হয়ে উঠেছিল। তার পরই তার মৃত্যুর খবর এলো। ভলগা নদীতে বরফের মাঝে পড়ে রহস্যময়ভাবে মারা গিয়েছেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি