প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:৫৫ এএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ১২:১২ পিএম
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)-এর মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। অথচ ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকের পক্ষেই এ চিকিৎসাসেবার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। ছবি : সংগৃহীত
সারা বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন জীবদ্দশায় বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত হয়। ১৯৯০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বন্ধ্যত্বের
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রকোপের ওপর গবেষণার আলোকে করা এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটি মনে করে, এ অবস্থা
থেকে উত্তরণের জন্য ফার্টিলিটি-সংক্রান্ত চিকিৎসা আরও উন্নত, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করা
দরকার।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার
পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার ১৭.৫ শতাংশ বন্ধ্যত্বের সমস্যায় রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন
প্রান্তে এ হারের তারতম্য খুবই সামান্য। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম
ঘেব্রেইসাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রিপোর্টটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ করেছেÑ বন্ধ্যত্ব
বৈষম্য করে না।’
বন্ধ্যত্ব হলো পুরুষ ও নারী
প্রজনন ব্যবস্থার একটি রোগ। ১২ মাস বা তার বেশি চেষ্টার পরও যারা গর্ভধারণে ব্যর্থ
হন, এ পরিস্থিতিকেই বন্ধ্যত্ব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
ডব্লিউএইচওর মতে, বন্ধ্যত্বের
সমস্যা যে কেবল প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকে মোটেও তা নয়। বরং
এ সমস্যায় যিনি আক্রান্ত তিনি আর্থিক ক্ষতির
সম্মুখীন হন এবং পুরো বিষয়টি তার মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে।
বন্ধ্যত্ব নানা কারণে হতে
পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বন্ধ্যত্ব একটি নিরাময়জনিত সমস্যা। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন
(আইভিএফ)-এর মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার
জন্য ব্যবহৃত হয়। অথচ ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকের পক্ষেই এ চিকিৎসাসেবার ব্যয়ভার বহন করা
সম্ভব হয় না।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক
সংস্থা বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা খরচ সম্পর্কিত পৃথক এক প্রতিবেদনে বলেছে, আইভিএফের
চিকিৎসার এক রাউন্ডের জন্য রোগীদের যে খরচ হয়, তা রোগীর দেশের বার্ষিক গড় আয়ের চেয়ে
বেশি।
ডব্লিউএইচওর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও গবেষণার পরিচালক ডা. প্যাসকেল অ্যালোটি জানান, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জন্য দারিদ্র্যের ফাঁদে পরিণত হয়।
সূত্র : আলজাজিরা