প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৪২ পিএম
ফ্রান্সের অর্থ এবং সমাজবিষয়ক মন্ত্রী মার্লিন শিয়েপ্পা। ছবি : সংগৃহীত
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে মডেল হয়ে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন ফ্রান্সের মন্ত্রী মার্লিন শিয়েপ্পা।
ফ্রান্সের মতো দেশের একজন মন্ত্রী প্লেবয় ম্যাগাজিনের কভার ফটোর জন্য পোজ দেবেন, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। খোলা চুল। পরনে সাদা রঙের পোশাক। স্পষ্ট বক্ষবিভাজিকা। দুই হাত সামনে রেখে চেয়ারের ওপর বসে তিনি।
তার এই স্বল্পবসনা দেহহিল্লোলে মাথা ঘুরে গিয়েছে ফ্রান্সের মানুষের। তাই ফ্রান্সে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শুধু সাধারণ মানুষই নন, নিজের দল, বিরোধী রাজনৈতিক দল, এমনকি, খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সমালোচিত হয়েছেন মার্লিন শিয়েপ্পা।
বর্তমানে সে দেশের অর্থ এবং সমাজবিষয়ক মন্ত্রী এই মার্লিন। প্লেবয় ম্যাগাজিনে তার ১২ পাতার ইন্টারভিউ ঘিরে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইন্টারভিউয়ে নারী এবং সমকামীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
প্লেবয় ম্যাগাজিনে মার্লিনের এমন ছবির সমালোচনা করে খোদ প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন বলেছেন, ‘এটা একেবারেই ঠিক হয়নি। বিশেষত এই সময়ে।’
সম্প্রতি অবসর ভাতা সংস্কারের বিরোধিতায় উত্তাল ফ্রান্স। সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬২ বছর।
পার্লামেন্টের ভোট এড়িয়ে অবসরের বয়স ৬২ থেকে ৬৪ করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
পেনশন খাতে খরচ বাঁচাতে অবসরের বয়স ৬২ থেকে ৬৪ করা হয়েছে।
ফ্রান্স সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় গর্জে উঠেছেন সে দেশের মানুষ। আর এই আবহে মন্ত্রীর এমন কাণ্ড নতুন মাত্রা যোগ করেছে ফরাসি বিপ্লবের দেশে।
তবে তাকে নিয়ে যতই বিতর্ক হোক না কেন, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় মন্ত্রী মার্লিন।
টুইটারে সাফ জানিয়েছেন, নারীরা তাদের শরীর নিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারেন। এই অধিকারের পক্ষেই সরব হয়েছেন তিনি। তার এই বক্তব্য আরও বিতর্ক বাড়িয়েছে।
১৯৮২ সালের ১৮ নভেম্বর জন্ম মার্লিনের। ম্যাগাজিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোনো। রাজনীতিতে আসার আগে ২০০৭ সালে বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করতেন তিনি।
ওই বছরই তার হাত ধরে পথ চলা শুরু হয় ‘লেস পেসনরিয়াস’ অনলাইন ম্যাগাজিনের। পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৮ সালে তৈরি করেন একটি ব্লগ।
কর্মরতা মায়েদের নিয়ে ওই ব্লগের সূচনা করেছিলেন মার্লিন। যার নাম দিয়েছিলেন, ‘মামন ট্র্যাভায়ে’ (মামি ওয়ার্কস)। এতে সফলও হন তিনি। এরপর মার্লিন নিজে মা হন। জন্ম দেন এক কন্যাসন্তানের। তারপরই বিজ্ঞাপন সংস্থা ছাড়েন। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়।
সেই সময় লেখালিখিতে মন দেন মার্লিন। মাতৃত্ব এবং নারীদের নিয়ে নানা উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। এতেও সফল হন তিনি। তার অন্যতম সফল বইগুলো হলো, ‘লেটার্স টু মাই ইউটেরাস’ এবং ‘হু আর দ্য রেপিস্টস।’
বই লিখতে লিখতেই রাজনীতির দিকে ঝোঁকেন তিনি। ২০১৪ সালে ফ্রান্সের লে মান্স শহরের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
নারীবাদী হিসেবে বরাবরই পরিচিত মার্লিন। সম্প্রতি প্লেবয় ম্যাগাজিনে তার প্রচ্ছদ ঘিরে বিতর্কের আবহে নারীদের হয়েই আওয়াজ তুলেছেন তিনি।
তবে এটাই প্রথম নয়। অতীতেও মার্লিনের নানা পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
২০১৯ সালে মার্লিন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেসব বিদেশি যৌন অপরাধ এবং নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের নির্বাসিত করা হবে।
মার্লিনের এই প্রস্তাব সেই সময় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
সূত্র : এনডিটিভি