প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ছবি: সংগৃহীত
মস্কোতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আটক সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচকের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে টেলিফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রবিবার (২ এপ্রিল) দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রথমবার ফোনালাপ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিককে অগ্রহণযোগ্য আটকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে তার মুক্তির আহ্বান জানান। গার্শকোভিচের নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এর জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ ওয়াশিংটন এ মামলার রাজনীতিকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। গার্শকোভিচের ভাগ্য এখন আদালত নির্ধারণ করবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি জানায়, তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক গার্শকোভিচকে গ্রেপ্তার করেছে। রাশিয়ার একটি সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে গারশকোভিচের ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গার্শকোভিচের বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনালাপের সময় রাশিয়া ফেডারেশনের আইন এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি ব্লিঙ্কেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।
ফোনালাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন রাশিয়ায় আটক হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নাগরিকেরও মুক্তিরও আহ্বান জানান। তিনি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন সেনা পল হুইলান। যিনি বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মস্কোতে কারাবন্দী আছেন।
গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা তীব্র হতে থাকে। এ আগ্রাসন শুরুর পর ব্লিঙ্কেন ও লাভরভের মধ্যে সরাসরি কথোপকথন প্রায় বিরল একটি ঘটনা। গত ২ মার্চ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জি-২০ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো দুজন মুখোমুখি কথা বলেন। এরপর রবিবার প্রথমবারের মতো ফোনলাপ করেন তারা।
সূত্র: রয়টার্স