প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:২১ পিএম
মে মাস থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত দৈনিক জ্বালানি তেলের উত্তোলন ৭ লাখ ৭২ হাজার ব্যারেল কমাবে। প্রতীকী ছবি
পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলির সংস্থার (ওপেক প্লাস) সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত দৈনিক জ্বালানি তেলের উত্তোলন ৭ লাখ ৭২ হাজার ব্যারেল কমাবে। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল করতে সাবধানতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই তিন দেশের কর্মকর্তাদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী মে মাস থেকে দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন ৭ লাখ ৭২ হাজার ব্যারেল কমানো হবে। এটা চলতি বছরের পুরোটা সময় কার্যকর থাকবে।
এদিকে একই সময়ে আলজেরিয়াও দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন ৪৮ হাজার ব্যারেল কমাবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ওপেক প্লাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইরাকে মামলার কারণে ইতোমধ্যে তেল উত্তোলন কমেছে।
এএফপি জানায়, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা আসতে পারে। কারণ ২০২০ সালের করোনার পর বর্তমান সময়ের তুলনায় জ্বালানি তেল উত্তোলন এতটা কমায়নি ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো।
অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় সুদহার বাড়ানোর হিড়িক পড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার জন্য সুদহার বাড়ানো হলেও তা ভিন্নভাবে ক্ষতি করে। একদিকে শক্তিশালী হয় ডলার, তার বিপরীতি অন্য দেশের মুদ্রার মান কমে যায়। ফলে আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।
গত অক্টোবরে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দেয় ওপেক। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রিয়াদ-ওয়াশিংটন সম্পর্কের পারদ আরেক ধাপ নামে।
ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, রাশিয়ার সুবিধার জন্যই তেল উত্তোলন করতে কারসাজি করেছে রিয়াদ। কিন্তু রিয়াদের দাবি ছিল, না, বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতেই তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এএফপি