প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরপরই রাজমুকুট হস্তান্তর করা হয়েছে তার বড় ছেলে চার্লসের কাছে। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই রাজার দায়িত্ব নিয়ে সিংহাসনের অধিপতি হয়েছেন তিনি। তৃতীয় চার্লস তিন। নতুন রাজা হিসেবে তার রয়েছে কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। সেগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
নতুন রাজা চার্লস পারবেন লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে। এছাড়া মুক্ত জলাশয়ের সব নির্বাক রাজহাঁসের মালিক হবেন তিনি। আর বছরে দুইবার নিজের জন্মদিন পালনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবেন নতুন রাজা।
পাসর্পোট বা লাইসেন্স
নতুন রাজা পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মত তার পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে না। কারণ তার নিজের নামেই নথি জারি করা হবে। প্রতিটি নথির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা থাকবে, ব্রিটানিক ম্যাজেস্টির সেক্রেটারি অব স্টেটের অনুরোধক্রমে যেন এ নথির বাহক বা মহামান্য রাজাকে অবাধে বা বিনা বাধায় ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়।
ব্রিটেনে রাজাই হবেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবেন।
দুটি জন্মদিন পালন
চার্লসের মা, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দুটি জন্মদিন ছিল। ২১ এপ্রিল ছিল তার প্রকৃত জন্মদিন। যেদিনটি ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন করা হয়। আর আনুষ্ঠানিক জন্মদিন জুনের দ্বিতীয় মঙ্গলবার। এ সময় গ্রীষ্মের আবহাওয়ায় প্যারেডের জন্য ভালো হয় বলে জনসাধারণ এ দিনটিতে তার জন্মদিন উদযাপন করতো।
যেহেতু চার্লসের জন্মদিন ১৪ নভেম্বর শীতের শুরুতে, তাই উষ্ণ মাসে তার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাপক বর্ণাড্য আয়োজনে পালিত হবে তার জন্মদিন।
ভোটাধিকার নেই
ব্রিটিশ রাজা ভোট দিতে পারবেন না এবং নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারবেন না। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাকে অবশ্যই রাজনৈতিক বিষয়ে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
তিনি সংসদীয় অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, সংসদ থেকে আইন অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাপ্তাহিক বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন।
রাজহাঁস, ডলফিন ও স্টার্জন
ব্রিটিশ রাজা শুধু মানুষের ওপর রাজত্ব করেন না। দ্বাদশ শতক থেকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস জুড়ে মুক্ত জলাশয়ের মুক্ত নির্বাক রাজহাঁসগুলোকে রাজার সম্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া ব্রিটিশ জলসীমায় স্টার্জন, ডলফিন ও তিমিদের ক্ষেত্রেও রাজকীয় বিশেষাধিকার প্রযোজ্য হয়।
রাজকীয় কবি
প্রতি ১০ বছর অন্তর ব্রিটেন একজন রাজকীয় কবি নিয়োগ করে যিনি রাজার জন্য পদ রচনা করে থাকেন। আর এ কবিকে সম্মাননা হিসেবে শেরি প্রদান করেন রাজা। ২০০৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যারল অ্যান ডাফি ছিলেন প্রথম নারী রাজকীয় কবি।
রাজকীয় পরোয়ানা
যারা রাজাকে নিয়মিত পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহ করে থাকেন তাদের জন্য এ রাজকীয় পরোয়ানা জারি করা হয়ে থাকে। এটি তাদের জন্য সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরোয়ানাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো রাজকীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করার অনুমতি রাখে৷ বারবেরি, ক্যাডবেরি, জাগুয়ার কার, ল্যান্ড রোভার, স্যামসাং এবং ওয়েটরোজ সুপারমার্কেটগুলো রাজকীয় পরোয়ানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
প্রবা/এনএস/টিকে