প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৪৮ এএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:২১ পিএম
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন
উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাস করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন এ সিদ্ধান্তকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে ঘোষণা করেছেন। তার এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইনে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
পিয়ংইয়ং ২০১৭ সালের পর শিগগিরই প্রথমবারের মতো পরমাণু পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পিয়ংইয়ং ছয়টি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব নিয়ম লঙ্ঘন করেছে পিয়ংইয়ং। প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দিতে ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের লক্ষ্যে সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে দেশটি।
এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন করলেও তাতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এর পরেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক পরীক্ষা চালান কিম। যে কারণে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা কমানোর সিদ্ধান্তে আলোচনা স্থগিত করা হয়।
এদিকে, বাইডেন প্রশাসনও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিমের সঙ্গে দেখা করবেন কি না তা জানা যায়নি।
হোয়াইট হাউস আরও জানায়, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে সহায়তার প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তা গ্রহণ করেনি উত্তর কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর তার উত্তর কোরিয়া নীতি পর্যালোচনা করে। এতে জানানো হয়, তাদের লক্ষ্য হলো কোরিয়া উপদ্বীপকে সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করা। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, তিনি কূটনীতি ও কঠোর প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে যাবেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কিমও বলেছেন, তারা আলোচনা এবং প্রতিরোধ দুটোর জন্যই প্রস্তুত।
এ বছর পিয়ংইয়ং রেকর্ড সংখ্যক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে কোরীয় উপদ্বীপে চরম উত্তেজনা বেড়েছে।
যার প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছরেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ উপদ্বীপে বৃহত্তম যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে।
প্রবা/এনএস/এমজে