প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১০:৫০ এএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১১:৪৬ এএম
তিউনিসিয়ার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে যাওয়া অন্তত ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে যাওয়া অন্তত ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ মার্চ) তিউনিসিয়ার উপকূলরক্ষীরা এ তথ্য জানান।
গত চার দিনে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর স্ফ্যাক্সের উপকূলে অভিবাসীবোঝাই পাঁচটি নৌকা ডুবে যায়। এতে ৬৭ জন নিখোঁজ এবং নয়জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইতালি যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এমন দুর্ঘটনার হারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে।
ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্র্য ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য তিউনিসিয়া যাত্রা শুরুর একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ডের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাউসেম জেবাবলি রয়টার্সকে বলেন, তিউনিসিয়ার উপকূলরক্ষীরা আরও উত্তরে মাহদিয়া উপকূল থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করেছেন।
দেশটির কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চার দিনে ইতালি অভিমুখে যাত্রা করা প্রায় ৮০টি নৌকা তারা থামিয়েছে এবং ৩ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে। যাদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলের বাসিন্দা।
তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ নথিপত্র ছাড়া সাব-সাহারান আফ্রিকানদের গ্রেপ্তারে বেশ তোড়জোড় শুরু করেছে। এরই মধ্যে এসব নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে।
জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার মানুষ তাদের যাত্রা শুরু করেছিল তিউনিসিয়া থেকে। ২০২২ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩০০।
তিউনিসিয়ান ফোরাম ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক রাইটসের পরিসংখ্যান অনুসারে, তিউনিসিয়ার উপকূলরক্ষীরা চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে থামাতে সক্ষম হয়। আর গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯০০।
ইতালীয় উপকূলরক্ষী বৃহস্পতিবার জানায়, তারা দক্ষিণ ইতালীয় উপকূলে দুটি অভিযানে প্রায় সাড়ে সাতশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার বলেন, তিউনিসিয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা না হলে ইউরোপ তার উপকূলে উত্তর আফ্রিকা থেকে রওনা হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিশাল ভিড় দেখতে পাবে।
মেলোনি তিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক ধস এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও ইউরোপের কয়েকটি দেশকে দ্রুত সহায়তা করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
সূত্র : রয়টার্স