প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৫০ পিএম
ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মিন অং হ্লাইং। ছবি : আরব নিউজ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর এটাই তাদের প্রথম বৈঠক। নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশ দুটির শীর্ষ নেতার মধ্যে এ বৈঠক সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন মিন অং হ্লাইং। ওই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। পাশাপাশি নেপিদোর ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়। সর্বশেষ এই সফর নিয়ে ওই ঘটনার পর তিনি দুবার রাশিয়া গেলেন।
রাশিয়ার সবচেয়ে পূর্বের শহর ভ্লাদিভস্টোকে মস্কোভিত্তিক ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামের (ইইএফ) সম্মেলন চলছে। এতে যোগ দিতে সেখানে যান হ্লাইং। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ওই সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে পুতিন ও হ্লাইং বৈঠক করেন। এ সম্মেলনে চীন, ভারত, জাপান, কাজাখস্তানসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে উন্নীত হচ্ছে।’ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর পুতিন হলেন দ্বিতীয় বিদেশি নেতা যিনি মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটি গভীর সংকটে পড়েছে। এর প্রতিবাদে দুই বছর ধরে চলছে আন্দোলন ও সশস্ত্র প্রতিরোধ। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দমাতে এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার গণতন্ত্রপন্থি কর্মীকে হত্যা করেছে জান্তা। এদিকে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছে।
মস্কোও ইউক্রেন আগ্রাসনের জেরে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে চলছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দেশ দুইটির মধ্যে ঘণিষ্ঠতা বাড়ছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা গ্লোবাল নিউ লাইট বলছে, মঙ্গলবার রাতে মিয়ানমার সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা আন্তন কোব্যাকভের সঙ্গে দেখা করেছেন। এতে তাদের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী আলেকজান্ডার ফোমিন ও মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা ‘রাশিয়ান ফেডারেশন ও মিয়ানমার, দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ভালো বন্ধু হিসেবে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছে।’
সংবাদপত্রটি বলছে যে, ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। আলোচনায় পর্যটন, তেল ও গ্যাস বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুসহ আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
মিয়ানমার গত আগস্টে সংকট কাটাতে রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। ভ্লাদিভোস্টকে মিন অং হ্লাইং পুতিনকে বলেন, রাশিয়ার মুদ্রা রুবলে আমদানির জন্য মিয়ানমার প্রস্তুত।
মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস এ বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেছিলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ করেছে এমন তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হচ্ছে রাশিয়া। বাকি দেশগুলো ছিল চীন ও সার্বিয়া। মূলত এসব অস্ত্র বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রবা/এইচকে /এসআর