প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:২০ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৩০ পিএম
রাজীব গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নামে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস। আজ (৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীর অভিমুখী এ কর্মসূচিতে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা করবে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। এতে প্রায় ১৫০ দিন সময় লাগবে।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাহুল গান্ধী তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুমবুদুরে তার বাবা রাজীব গান্ধীর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেছেন। যেখানে ১৯৯১ সালের ২১ মে আত্মঘাতী হামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিহত হয়েছিলেন।
বাবার স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের পর এক টুইটবার্তায় রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘হিংসা ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি আমার প্রিয় দেশকেও এর কাছে হারতে দিতে দেব না। ভালোবাসা ঘৃণাকে জয় করবে; আশা করি ভয়কে পরাজিত করবে। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা (এসব) অতিক্রম করব।’
ভারতের অন্যতম বৃহৎ দলের এই নেতা বিজেপি শাসনামলে সামাজিক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক কেন্দ্রীকরণের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ তার কাছে তপস্যার মতো।
এরপর সন্ধ্যায় কন্যাকুমারীতে মহাত্মা গান্ধীমণ্ডপে একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন রাহুল গান্ধী। সেখানে এই পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধনের জন্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন খাদির একটি জাতীয় পতাকা তুলে দেবেন রাহুল গান্ধীর হাতে।
ভারতের প্রাচীন এ রাজনৈতিক দলটি দাবি করেছে, এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দীর্ঘতম রাজনৈতিক পদযাত্রা হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সময় আজ বিকাল ৫টার দিকে একটি র্যালির মাধ্যমে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ পদযাত্রা শুরু হবে।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হেঁটে কংগ্রেসের হাজারো নেতা-কর্মী ১২টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যাত্রা করবেন। পুরো পথই এ নেতা পায়ে হেঁটে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত পুরো কর্মসূচি শেষ হতে প্রায় ১৫০ দিন লাগবে।
হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করে রাজনীতি করা বিজেপির কাছে ভোটের রাজনীতিতে এক দশক ধরে ধরাশায়ী হয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো এ রাজনৈতিক দলটি। এর নেতারা বলেন, এটি দলের সর্বকালের সবচেয়ে বড় জনসংযোগ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূলে্যর ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্বসহ বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরবেন।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘এ পদযাত্রা ভারতীয় রাজনীতির জন্য রূপান্তরমূলক ক্ষণ এবং দলের পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি চূড়ান্ত নির্ণায়ক মুহূর্ত।’
এর আগে মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে কংগ্রেস। এক ভিডিওবার্তায় তিনি দেশের সমৃদ্ধির জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং পদযাত্রায় অংশ নিতে আহ্বান জানান।
২০২৪ সালে দেশটির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং জনগণের সামনে সমস্যাগুলো তুলে ধরতে এ কর্মসূচি নেয় তারা। এর আগে গত মে মাসের মাঝামাঝি রাজস্থানের উদয়পুরে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তিন দিনব্যাপী ‘চিন্তন শিবির’–এ এই কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
প্রবা/এইচকে /এসআর/