প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৩ ১৬:১২ পিএম
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইমরান খান। ১৫ মার্চ লাহোরে নিজ বাসভবনে। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মহানাটকে রূপ নিয়েছে। ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে পাঞ্জাবের লাহোরে তার বাসভবনের সামনে দুই দিন অবস্থান শেষে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার খালি হাতে ফেরত যায় পুলিশ। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর ইমরান খানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সাময়িক স্থগিতের আদেশ বাতিল করে দেশটির অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন বিচারক জাফর ইকবাল।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ইমরান খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি সংক্রান্ত তোষাখানা মামলার একটি শুনানি চলছিল। শুনানিতে অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন বিচারক জাফর ইকবাল বলেন, তোষাখানা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা জামিনের অযোগ্য। তাই তা স্থগিতের কোনো সুযোগ নেই। তাকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৮ মার্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্টে হাজির হতে হবে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, আদালতে হাজির হলে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বিচারক জাফর ইকবাল আরও বলেন, আমাদের মতো একটি গরিব দেশে তাকে (ইমরান খান) গ্রেপ্তার করতে ৭ মার্চ থেকে কয়েক দফায় পুলিশ তার বাড়িতে গেছেন। এ সময় তার সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন, অগ্নিসংযোগ করেছেন। এসব কিছুর মধ্য দিয়ে পিটিআইপ্রধান রাষ্ট্র ও আদালতের ইজ্জত ভূলণ্ঠিত করেছেন। তাই কোনো বিবেচনায় তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।
দ্য ডন জানায়, ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় তহবিল তোষাখানা থেকে অন্যায্যভাবে উপহার গ্রহণের অভিযোগ ওঠে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় ইতঃপূর্বে চারবার শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন ইমরান খান।
এ অবস্থায় গত ৭ মার্চ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)। ওই দিনই পুলিশ লাহোরের জামান পার্ক এলাকায় তার বাসায় যায়। কিন্তু খান কৌশলে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে গ্রেপ্তারের হাত থেকে রক্ষা পান।
পরবর্তীতে খানকে ১৩ মার্চ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয় আইএইচসি।কিন্তু ওই দিনও আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত থাকেন খান। এ অবস্থায় ১৮ মার্চের মধ্যে খানকে আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন আইএইচসি।
আদেশ পেয়ে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) থেকে খানের বাসার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি আধা-সামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদস্যরাও সেখানে অংশ নেন। ইতোমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি খানের বিপুল নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরাও সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় খান বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত আছি। যে কারও সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত আছি। তবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।
সূত্র : দ্য ডন