× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চীনের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ২১:৩৮ পিএম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ২২:৩৮ পিএম

চীনের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুগান্তকারী পারমাণবিক ডুবোজাহাজ চুক্তিটি চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি নিয়ে উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বেইজিংয়ের সামরিক প্রচেষ্টাকে মোকাবিলায় সহায়তা করতে নতুন জাহাজগুলোকে প্রস্তুত হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

এই সাবমেরিন চুক্তিটি অকাস (এইউকেইউএস) নামে পরিচিত একটি চুক্তির অংশ। চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার ডিজেলচালিত সাবমেরিনগুলোর স্থলাভিষিক্ত হবে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিনগুলো। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন কেনা হবে। পরে অস্ট্রেলিয়া অভ্যন্তরীণভাবেই তৈরি করবে এই সাবমেরিন।

অকাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম শক্তির উৎস হিসেবে পরমাণু ব্যবহারের প্রযুক্তি কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৫০-এর দশকে তারা ব্রিটেনের সঙ্গে এমন ভাগাভাগি করেছিল।

তবে এতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চীন যখন সশস্ত্র বাহিনীকে দ্রুতগতিতে উন্নত করছে তখন এ প্রচেষ্টাটি অনেক সময়সাপেক্ষ। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা চার্লস এডেল বলেছেন, এইউকেইউএস চুক্তি নিয়ে অনেকেরই ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি রয়েছে, তবে মূলত চীনকে কেন্দ্র করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এডেল বলেন, এইউকেইউএস যখন প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন চীনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও তখনও বেইজিংয়ের সামরিক শক্তির তাত্পর্যপূর্ণ উন্নতি করা হচ্ছিল। পাশাপাশি গত দশকে চীনের ব্যবহার ছিল আরও আক্রমণাত্মক। তাই এইউকেইউএস গঠনের পেছনে মূল উদ্দীপনাই ছিল চীন। 

চীনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বেইজিংয়ের সামরিক পদক্ষেপ প্রতিরোধ করতে চাইছে, বিশেষ করে তাইওয়ানের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চীন চায় তার সামরিক বাহিনী তাইওয়ান আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত থাকুক। 

স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে বেইজিং তার ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ২০২৭ সালের মধ্যে দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ভার্জিনিয়া ক্লাসের সাবমেরিন ২০৩০ সালের আগে হাতে পাবে না অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ ২০৩০ সালের আগেই যদি চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করে বসে তবে এ চুক্তি চীনকে প্রতিরোধে কোনো কাজেই লাগবে না। 

চার্লস এডেল বলেন, এটা অনুধাবন করা যায় যে এইউকেইউএসের এখন একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশ তিনটি এখন কীভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে সেটাই দেখার বিষয়।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়াকে জেনারেল ডায়নামিক্সের বানানো তিনটি মার্কিন ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিধর ডুবোজাহাজ বিক্রি করতে চাইছে; প্রয়োজন পড়লে অস্ট্রেলিয়া যেন একই ধরনের আরও দুটি সাবমেরিনও কিনতে পারে, সে সুযোগও থাকছে, বলা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

ভার্জিনিয়া শ্রেণির পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ অস্ট্রেলিয়ার কলিন্স-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য ক্যানবেরার নৌবাহিনীতেও একটি বড় পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজগুলোর কয়েকটি সংস্করণ প্রায় দ্বিগুণ বড় এবং দ্বিগুণেরও বেশি নাবিকের প্রয়োজন।

অকাসের অংশীদারত্ব প্রথম ২০২১ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ১৮ মাস পরামর্শের সময় ধরা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের একটি নৌঘাঁটিতে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন চুক্তি ঘোষণা করেন।

ওই চুক্তি ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হলো ২০৪০-এর দশকের শুরুর দিকে অভ্যন্তরীণভাবে এসএসএন-অকাস নামের পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরি করা। এটি যুক্তরাজ্যের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে। এই ডুবোজাহাজে ভার্জিনিয়া শ্রেণির প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ব্রিটেন তার প্রথম এসএসএন-অকাস ডুবোজাহাজটি পাবে ২০৩০-এর দশকের শেষদিকে, অস্ট্রেলিয়া পাবে ২০৪০-এর দশকের শুরুতে। এই নৌযানগুলো বানাবে বিএই সিস্টেমস ও রোলস রয়েস।

বাইডেন জোরের সঙ্গে বলেছেন, যেসব ডুবোজাহাজ অস্ট্রেলিয়া পেতে যাচ্ছে সেগুলো পারমাণু শক্তিচালিত হবে, পারমাণবিক অস্ত্রধর নয়। তিনি বলেন, ওইসব নৌযানে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রই থাকবে না। তবে এই চুক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। ২০৫৫ সাল নাগাদ এই প্রকল্পে তাদের ২৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের মতো খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, অকাস ডুবোজাহাজ চুক্তি বাস্তবায়নে ‘তিনটি দেশেরই নৌকারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ উন্নতির প্রয়োজন হবে’। এখানে উদ্বেগের বিষয় হলো অকাস চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য ডুবোজাহাজ উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির প্রতিনিধি রব উইটম্যান বলেছেন, তাদের বাহিনীর জন্য ডুবোজাহাজ তৈরিতে যে খরচ হয়, সেই একই খরচে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ডুবোজাহাজ তৈরি করা যেতে পারে না। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অকাস সদস্যরা যদি নাবিকের সংখ্যা ডুবোজাহাজের সামগ্রিক সংখ্যার চেয়ে না বাড়ায় তবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না। 

এডেল বলেন, তিনটি দেশে শিপইয়ার্ডের উৎপাদনক্ষমতা কত সেটাই এখন প্রশ্ন। লক্ষ্য হলো এই শিপইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ নির্মাণের ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু চীনকে মোকাবিলায় কত দ্রুত সেটা করা যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। সূত্র : এএফপি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা