প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৩ ১১:০৬ এএম
ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ধনকুবের বাও ফ্যান। ছবি : সংগৃহীত
চীনে মাঝে মাঝেই শীর্ষ ধনীরা গায়েব হয়ে যান। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আছেন ই-কমার্স আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা।
গত মাস থেকে নিখোঁজ আছেন চীনের প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ধনকুবের বাও ফ্যান। তার এই হারিয়ে যাওয়া নিয়ে দেশে-বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি চায়না রেনেসাঁ হোল্ডিংসের প্রতিষ্ঠাতা। তার ক্লায়েন্ট তালিকায় আছে ইন্টারনেট জায়ান্ট- টেনসেন্ট, আলীবাবা ও বাইডু।
ইতোপূর্বে এইভাবে কয়েকজন ধনকুবের হঠাৎ গায়েব হয়ে যাওয়ায় এ পদ্ধতিটি দেশটিতে বেশ পরিচিত। ফলে বাও ফ্যান গায়েব হওয়ার পরে তার কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা চীন কর্তৃপক্ষের একটি তদন্তে সহায়তা করছে। তবে ওই তদন্ত বা বাওয়ের অবস্থান নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য দেয়নি। ব্যাপারটা এমণ যে একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে যে, এমন ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকে না।
যখন এ ধরণের ধনকুবেরদের গায়েব হওয়া নিয়ে বেশি আলোচনা হয় তখন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে যারা সরকার বিরোধী বা মানবাধিকার কর্মী তাদের বিষয়টিও। তবে বাওয়ের গায়েব হয়ে যাওয়ায় অন্য একটি ব্যাপার সামনে চলে এলো তা হলো- দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এভাবেই চীনের অর্থনীতির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করতে চাইছেন।
২০১৫ সালেই অন্তত পাঁচজন নির্বাহী ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে শিল্পগোষ্ঠী ফসুন ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জু গুয়াংচ্যাঙও ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনের মালিক হিসেবে পশ্চিমাদের কাছে পরিচিত। সে বছরের ডিসেম্বরে তার নিখোঁজের পর তার কোম্পানি বলেছিলো তারা কর্তৃপক্ষের একটি তদন্তে সহায়তা করছে।
এর দু বছর পর চীনা-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী জিয়াও জিয়ারহুয়াকে হংকংয়ে একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হয়। তিনি চীনের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। গত বছর দুর্নীতির দায়ে তার জেল হয়েছে।
২০২০ সালের মার্চে প্রেসিডেন্টকে ক্লাউন বলার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন রিয়েল এস্টেট টাইকুন রেন ঝিকিয়াং। পরে এক দিনের বিচারে রেনকে দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ বছর জেল দেয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত গায়েব হওয়ার ঘটনা হলো আলীবাবার জ্যাক মার ঘটনা। ওই সময়ে চীনের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি চীন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছিলেন। দেশটির কমন প্রসপারিটি ফান্ডে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া ছাড়া প্রায় দু বছর তাকে দেখা যায়নি। যদিও তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। জ্যাক মার অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও মাঝে মধ্যে তিনি জাপানে, থাইল্যান্ডে বা অস্ট্রেলিয়ায় আছেন বলে খবর বেরিয়েছে।
তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এসব ব্যবস্থাকে দেশটির ধনী ব্যক্তিদের উপর কিছু আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখাতে চাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য দুর্নীতি দূর করা। এটা তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে যারা তাদের সম্পদ ও অন্যান্য কারণে যথেষ্ট ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিলেন। এখন এই ক্ষমতাই চীন সরকার ফেরত নিতে চাইছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন। এর আগে বেইজিংয়ের মূল দৃষ্টি ছিলো মূলত সামরিক, ভারী শিল্প ও স্থানীয় সরকারের ওপর। শি জিনপিং এখন জোর চেষ্টা চারিয়ে যাচ্ছেন দেশটির অর্থনীতিতে তার নিয়ন্ত্রণ আরো বেশি পোক্ত করতে। তার কমন প্রসপারিটি পলিসিকে দেখা হয়েছে অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের অভিযান হিসেবেই।
দ্য ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নিক মারো বিবিসিকে বলেছেন, মাঝে মধ্যে এসব ঘটনা বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট শিল্প বা ইন্টারেস্ট গ্রুপকে একটি বড় বার্তা দেয়। তবে দিন শেষে এটি একটি অর্থনীতির একটি অংশের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: বিবিসি