প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৫ পিএম
সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে বহু সিরীয় পরিবার। ছবি : সংগৃহীত
অর্থনৈতিক সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড মহামারি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আদর্শ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ৩০টি দেশে কলেরা তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বেশ কয়েক বছর কমার পর ২০২২ সালে কলেরা প্রাদুর্ভাবের মাত্রা তীব্রভাবে বেড়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ২৯টি দেশে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। যা ২০২১-এর ২৩টি দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৩-এ কলেরা সংক্রান্ত দেশের সংখ্যা আরও বাড়বে।
এই ইস্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কলেরা ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিটের প্রধান ফিলিপ বারবোজা টেলিগ্রাফকে বলেছেন, 'একই সময়ে বড় প্রাদুর্ভাবের দেশগুলোর সংখ্যা, আমরা অন্তত ২০ বছরে দেখিনি।'
বারবোজা আরও জানান, যেসব প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তার অধিকাংশই অস্বাভাবিক জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে। আফ্রিকার দক্ষিণের দেশগুলো টানা তৃতীয় বছরেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত সেখানে কলেরা ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।
এর আগে সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাসও গতবছর কলেরা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কের বিষয়টি বলেছিলেন।
সিরিয়াতে গত বছরেই দেশটিতে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম কলেরা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। গতমাসের ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এদিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক সময়ে অগ্রসর দেশ লেবানন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। সে দেশটিও গত ৩০ বছরে প্রথম কলেরা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে কলেরা মোকাবিলা সংক্রান্ত প্রচেষ্টা স্থগিত ছিল। ফলে সমস্যাটি আরও বেড়েছে। এরপরেও পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে আশাবাদি ফিলিপ বারবোজা। তার মতে, কলেরা নিয়ন্ত্রন করা যেতে পারে। নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, কারণ এটি ব্যয়বহুল নয়। এর চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার।
কলেরা একটি মারাত্মক রোগ যা দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার ফলে সংক্রমিত হয়। চিকিৎসা না করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্তের মৃত্যু হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ এই রোগে মারা যায়।
সূত্র : রাশিয়া টুডে