প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ২২:০২ পিএম
কোন্দলের প্রেক্ষাপটে বার্লিনের উপকণ্ঠে মেসেব্যার্গ কেল্লায় মিলিত হয়েছে শলৎসের মন্ত্রিসভা। ছবি : সংগৃহীত
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ দেশের আধুনিকীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিজের সরকারকে ‘অগ্রগতির জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তখন জার্মানির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন-দলীয় জোট সরকার গঠন করেছিলেন তিনি। সেই জোট একাধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগিয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ তাদের হিসাব গোলমাল করে দিয়েছে বলা যায়। সঙ্গত কারণেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে দেশটির সরকার এই সংকটের সময়ে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়কে এখন বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছে।
যে কারণে প্রবল চাপের মুখে শরিক দলগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে মনোমালিন্য বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ছোট শরিক দল পরিবেশবাদী সবুজ দল ও উদারপন্থি এফডিপি দলের মন্ত্রীদের মধ্যে কলহ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর এই কলহ চ্যান্সেলরের জন্য প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
এ রকম প্রেক্ষাপটে বার্লিনের উপকণ্ঠে মেসেব্যার্গ কেল্লায় দুই দিনের জন্য মিলিত হন শোলজের মন্ত্রিসভা। গত রবিবার চ্যান্সেলর শোলজ দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণও দিয়েছেন। তিনি ওই ভাষণে দেশবাসীকে সমাজ ও অর্থনীতির আধুনিকীকরণের বিষয়ে নিশ্চিত থাকার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রিসভার ওই বিশেষ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি জলবায়ুনীতি ও ডিজিটাইজেশনের মতো বিষয় বাড়তি গুরুত্ব পায়।
চ্যান্সেলর বলেন, দ্রুতগতিতে অর্থনীতির আধুনিকীকরণ ঘটিয়ে কার্বনমুক্ত হয়ে উঠবে জার্মানি এবং বিশ্বব্যাপী সফলভাবে রপ্তানি চালিয়ে যাবে বার্লিন। সেই সঙ্গে দেশের মানুষও ভালো বেতনের চাকরি করতে পারবেন।
জার্মান মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকের শুরুতেই উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন।
ইইউ দেশগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে জার্মানির পরিবহনমন্ত্রীর আপত্তি যে সংকট সৃষ্টি করেছে, ‘গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে’ সেই জটিলতা কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে বলে ফন ডেয়ার লাইয়েন ও শোলজ আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, একের পর এক নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার কারণে সরকারের ছোট শরিক এফডিপি দল পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি পুরোপুরি বাতিল করার পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করছে।
গত বছর অক্টোবর মাসেই ইইউ পার্লামেন্ট ও সদস্য দেশগুলো ২০৩৫ সালের পর শুধু কার্বন নির্গমনহীন নতুন গাড়ি পথে নামানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছয়।
গত মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের কথা ছিল। জার্মানির এফডিপি দলের আপত্তির কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। এফডিপি ই-ফুয়েল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের দাবি করছে। ই-ফুয়েল কার্বনমুক্ত হলেও সেই জ্বালানি উৎপাদন করতে অনেক বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে।
জার্মান চ্যান্সেলর নিজের জোট সরকারের মধ্যে এমন কোন্দল দূর করার বিষয়ে প্রকাশ্যে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন।
তার মতে, মৌলিক নীতির ক্ষেত্রে ঐকমত্যের কোনো অভাব নেই। খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হবে বলে শোলজ আশা প্রকাশ করেন। বাজেটের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মন্ত্রীর প্রত্যাশা নিয়ে টানাপড়েন দূর করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
সূত্র : রয়টার্স, এএফপি