প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১১:০৯ এএম
গবেষণা অনুসারে সাইবেরিয়া ও কানাডায় চরম খরা এবং তাপপ্রবাহের কারণে দাবানল বিস্তৃত হতে সাহায্য করেছিল। ছবি : সংগৃহীত
একটি নতুন সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলীয় বনগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে একটি ‘টাইম বোমা’ হয়ে উঠতে পারে। কারণ উত্তরের বনগুলোতে ব্যাপক বিস্তৃত দাবানলের সৃষ্টি হচ্ছে, আর গাছে জমা থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে।
আগে একসময় দাবানলের ঘটনা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনগুলোতেই ঘটত। কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ২০০০ সাল থেকে গ্রীষ্মের দাবানল বোরিয়াল বনে প্রসারিত হয়েছে, যা পৃথিবীর উত্তরের অংশের চারপাশে রয়েছে।
বোরিয়াল বন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের শীতলতম বন। এটি তাইগা বন নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা, কানাডা, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, রাশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এই বনের অবস্থান। চিরহরিৎ কনিফার স্প্রুস, ফার, পাইন, লার্চ, বার্চ এবং অ্যাস্পেন প্রজাতির গাছ রয়েছে এসব বনে।
বোরিয়াল বনের দাবানল সাধারণত বিশ্বব্যাপী দাবানল সংক্রান্ত কার্বন দূষণে ১০ শতাংশ দায়ী। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে কার্বন দূষণে বোরিয়াল বনের অবদান ২৩ শর্তাংশ। গবেষণা অনুসারে সাইবেরিয়া ও কানাডায় চরম খরা এবং তাপপ্রবাহের কারণে দাবানল বিস্তৃত হতে সাহায্য করেছিল।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সিস্টেম সায়েন্সের অধ্যাপক ও গবেষণার লেখক স্টিভেন ডেভিস বলেন, ‘বোরিয়াল বনগুলো কার্বন নিঃসরণের একটি টাইম বোমা হতে পারে।’ সাম্প্রতিক সময়ে দাবানলের কারণে কার্বন নির্গমন বৃদ্ধির ঘটনাটি বোমার ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের এসব বনে বিপুল পরিমাণ কার্বন মজুদ রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য বাস্তুতন্ত্রের তুলনায় এসব বনে দাবানলের ঘটনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে।
বিশেষ করে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ২০২১ সালে মারাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটে। ওই দাবানলে বনের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ একর জমির গাছ পুড়ে গিয়েছিল।
কোলেসভ বলেন, অঞ্চলটি দাবানলপ্রবণ এবং এসব এলাকার বেশিরভাগ জমি বনে আচ্ছাদিত। ইয়াকুটিয়ার উত্তরে নতুন করে যে দাবানল দেখা দিয়েছে, অতীতে সেখানে আগে কখনও আগুন লাগেনি।
বেইজিংয়ের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক গবেষণার লেখক বো ঝেং ই-মেইলের মাধ্যমে সিএনএনকে বলেছেন, দাবানল আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং এসব দাবানল এমন জায়গায় ঘটছে, যে জায়গাগুলো শীতপ্রধান। সচরাচর সেখানে দাবানলের ঘটনা ঘটে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণত প্রচণ্ড শীতে গাছপালাগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়, যাকে বলা হয় ডরমেন্সি স্টেট। তাপমাত্রা বাড়লে গাছপালার বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু তাপপ্রবাহ শুরু হলে গাছগুলো শুষ্ক হয়ে যায় এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায়।
ঝেং বলেন, আমরা জলবায়ু ও বোরিয়াল বনের দাবানলের মধ্যে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছি। তাপপ্রবাহ ও খরা বোরিয়াল অঞ্চলে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। ২০২১ সালের মতো চরম দাবানল বারবার ঘটতে পারে এবং তীব্রতা বাড়তে পারে, যা ব্যাপক হারে নির্গমনের কারণ হবে। এটি বিশ্বকে আরও উষ্ণায়নের দিকে পরিচালিত করবে।
সূত্র : এএফপি ও সিএনএন