প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২২ ২২:১৮ পিএম
গত মাসের ১১ তারিখ নিহত হয় আলজাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। জাতিসংঘ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতেই তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের (ওএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে যে আবু আকলেহকে হত্যা এবং তার সহকর্মী আলী সামৌদিকে আহত করা গুলি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকেই ছোড়া হয়েছিলো।
শামদাসানি আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময়ে তাদের আশেপাশে সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের কোনো কার্যকলাপ দেখা যায়নি বা কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয়নি।
আবু আকলেহ উত্তরে অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকের জেনিনে সেনা অভিযান কভার করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হন। তার হত্যার পরে ফিলিস্তিন এবং বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। এই সময়েও ইসরায়েলি পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনীই প্রবীণ এই সাংবাদিককে হত্যা করেছে। একাধিক গণমাধ্যম সংস্থার তদন্তেও একই ফলাফল এসেছে।
শামদাসানি বলেন, ওএইচসিএইচআর-এর তদন্তে দেখা গেছে আবু আকলেহ এবং তার সহকর্মী সাংবাদিকরা রাস্তার নীচে অবস্থানরত ইসরায়েলি সৈন্যদের কাছে প্রেসের সদস্যরা দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টা করেছিলেন। ঐ নির্দিষ্ট সময়ে সেই স্থানে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং কোন গুলিও চালানো হয়নি। অথচ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সাংবাদিকদের দিকে তাক করে গুলি চালানো শুরু করে দেয়।
সেই সময়ে উপস্থিত থাকা সাংবাদিকেরাও একই কথা জানান।
শামদাসানি বলেন, একপর্যায়ে আবু আকলেহকে সাহায্যে করতে আসা একজন নিরস্ত্র লোককে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়।
ওএইচসিএইচআর প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট আবু আকলেহের হত্যাকাণ্ডের একটি ফৌজদারি তদন্ত করার অনুরোধ জানান ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটসহ তার অন্যান্য কর্মকর্তারা দাবি করেন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা আবু আকলেহকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে ইসরায়েল তাদের দাবি থেকে পিছু হটে এবং জানায়, একজন ইসরায়েলি সৈন্য গুলি চালিয়েছিল এমন সম্ভাবনাকে অস্বীকার করতে পারে না তারা।
তবে ইসরায়েল এখনও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে কিনা কিংবা তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল কী তা প্রকাশ করেনি।
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক গত ২৬ মে ঘোষণা করে যে তারা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)এই হত্যাকাণ্ড রেফার করার জন্য একটি আইনি দলকে দায়িত্ব দিয়েছে।