প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৫৭ পিএম
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন কৃষি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক শুরু করেছেন। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এএএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্ন এই দেশটিতে ‘গুরুতর’ খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ায় সাধারণত এই ধরনের সভা বছরে মাত্র একবার বা দুবার ডাকা হয়। এসব সভায় কৃষি নিয়েও আলোচনা করা হয়। তবে কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এটি উত্তর কোরিয়ায় বর্তমানে গুরুতর খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কার বিষয়ে যে জল্পনা চলছে সেটিকে উস্কে দিয়েছে।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নতুন যুগে গ্রামীণ বিপ্লবের কর্মসূচি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করতে এবং তাত্ক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কাজগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে’ কিম গত রবিবার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের উদ্বোধনীতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এ বিষয়ে বিশদ কোনো বর্ণনা দেয়নি কেসিএনএ।
দক্ষিণ কোরিয়ার একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় বলছে, উত্তর কোরিয়ায় অনাহারে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কু বায়ং-স্যাম গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘আমরা সেখানকার খাদ্য ঘাটতিকে গুরুতর বলে বিবেচনা করি।’
উত্তর কোরিয়ার পর্যবেক্ষণ সাইট ‘৩৮ নর্থ’ বলেছে, তারা দেশটির বর্তমান খাদ্য ঘাটতিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বলে বিবেচনা করছে।
যদিও উত্তর কোরিয়ার প্রধান রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোডং সিনমুনে প্রকাশিত একটি মতামতে বলা হয়েছে, ‘সাম্রাজ্যবাদীরা, তথাকথিত ‘সহযোগিতা’ এবং ‘সাহায্য’র আড়ালে, এমনভাবে আওয়াজ তুলছে যেন অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিছু দেশ তাদের সমর্থন ছাড়া সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে না। তাদের তথাকথিত সমর্থনের লক্ষ্য হলো দেশগুলোকে তাদের কাঁচামাল ও বাজারের উৎসে পরিণত করার প্রচেষ্টা।
পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্র কর্মসূচির জন্য একাধিক নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। দীর্ঘদিন দেশটি খাদ্য ঘাটতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে। অবকাঠামোর অভাব, বন উজাড় এবং কয়েক দশকের রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে বন্যা ও খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি কয়েক বছর ধরে সীমান্ত বন্ধ করে রাখে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশটি কয়েকটি দুর্ভিক্ষেরও শিকার হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে দুর্ভিক্ষে দেশটির কয়েক লাখ লোক মারা যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে।
সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা