প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে নানান দেশের প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী গত বছর আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন, যা ২০১৬ সালের পরে সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রায় ৩৪ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে বাংলাদেশিদের আবেদন গৃহীত হওয়ার হার কম।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির সরকারি সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইইউ প্লাস (ইইউর ২৭ দেশ, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড) দেশগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৯ লাখ ৬৬ হাজার অভিবাসী আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি এবং গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত সংস্থা ইইউএএ ২২ ফেব্রুয়ারি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
এর বাইরে গত বছর প্রায় ৪০ লাখ ইউক্রেনীয় সাময়িক সুরক্ষার আওতায় ইউরোপে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউক্রেনীয়দের সাময়িক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে গিয়ে গোটা আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার ওপরই বড় ধরনের চাপ পড়েছে৷ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নতুন আগতদের জায়গা দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
প্রায় ৩৪ হাজার বাংলাদেশির আবেদন
২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন। গত বছর এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। অনিয়মিত উপায়ে আসা ৩৩ হাজার ৭২৯ জন বাংলাদেশির আবেদন জমা পড়েছে ২০২২ সালে, যা পাকিস্তানের নাগরিকদের পর আবেদনের দিক থেকে সপ্তম।
ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, তুর্কি, ভেনেজুয়েলান, কলম্বিয়ান, বাংলাদেশি ও জর্জিয়ানদের আবেদনের সংখ্যা অন্তত ২০০৮ সালের পর সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
কোন দেশ থেকে কত
অনিয়মিতভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে প্রবেশের পর অভিবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশে আশ্রয়ের আবেদন জানাতে পারেন। প্রথমবার আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ফের আবেদন করতে পারেন তারা।
ইইউএএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন ৮ লাখ ৮৫ হাজার জন। আর পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন প্রায় ৮০ হাজার।
আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার জনই ছিলেন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ।
২০২১ সালের ধারাবাহিকতায় গত বছর আশ্রয় চাওয়াদের দুই তৃতীয়াংশই ছিলেন সিরীয় (১ লাখ ৩২ হাজার) ও আফগানরা (১ লাখ ২৯ হাজার)। ২০১৬ সালের পর দেশ দুটির নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।
তৃতীয় অবস্থানে আছেন তুরস্কের লোকজন, ৫৫ হাজার আবেদনকারী ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দেশটির। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মানুষেরা। দেশ দুটির আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা যথাক্রমে ৫১ হাজার ও ৪৩ হাজার জন।
সূত্র : ডয়েচে ভেলে