প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২২ ২০:৫৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতার রাশ টানতে বন্দুক নিয়ন্ত্রণে একটি বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র আইন। খবর বিবিসির।
বিলটি অনুযায়ী, ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস যাচাই করে নিতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচির জন্য এবং স্কুলের নিরাপত্তা বাড়াতে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পরিমাণ কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে বিলে। এ ছাড়া হুমকি বলে বিবেচিত মানুষদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নিতে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ আইন বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে তহবিল বরাদ্দেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গুলির ঘটনা ঘটে চলছে। গত ২৪ মে টেক্সাসের একটি স্কুলে নির্বিচার বন্দুক হামলায় ১৯ শিশুসহ ২১ জন নিহত হন। তার কয়েক দিন আগে নিউইয়র্কের বাফেলোয় একটি সুপারমার্কেটে এক বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার দাবি নতুন করে গতি পায়।
বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬৫ জন। এর মধ্যে ১৫ জন রিপাবলিকান সদস্যও আছেন। বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৩ জন। এখন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস করাতে হবে। এর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হবে।
কয়েক দিনের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া চালানো হতে পারে।এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই পক্ষ থেকেই সমর্থন পেয়েছে। এর আগে দেখা গেছে, যখনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করার প্রশ্ন আসত, তখনই তাতে বাধা দিত রিপাবলিকান পার্টি।
আগ্নেয়াস্ত্রের পক্ষের সংগঠন ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) বিলটির বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি হলো, এ আইন সহিংসতা ঠেকাতে পারবে না।
অন্যদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন বন্দুক নিয়ন্ত্রণের এই বিলটি আমেরিকানদের আরও নিরাপদ করবে বলে জানিয়ে বলেন, ‘উভালদের স্কুলে আমরা যা দেখেছি এবং অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যা দেখেছি তারপর কোনো কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকাতে আমি বিশ্বাস করি না।’
জন কর্নিনের ভাষায়, ‘কিছু না করে চুপ করে বসে থাকা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আমেরিকান জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের দায়িত্বের পরিত্যাগ।’