প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম
রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থানের উপর মর্টার শেল নিক্ষেক করছেন এক ইউক্রেনীয় সেনা। ছবি : সংগৃহীত
বাখমুত অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গা ওয়্যাগনার আর্মি দখল করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর ওই দাবি অস্বীকার করেছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের পূর্বের শহর বাখমুতে দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাগ্রুপ ওয়্যাগনারের তীব্র লড়াই হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়া দাবি করেছে, বাখমুত ঘিরে ফেলেছে ওয়্যাগনার আর্মি। এবার তারা শহরের ভিতরে প্রবেশ করবে। কিন্তু বাস্তবে রাশিয়ার দাবি মিথ্যা বলে দাবি করেছে কিয়েভ। তাদের বক্তব্য, ওই পুরো এলাকা এখনো ইউক্রেনের সেনার হাতেই আছে।
দ্বিতীয় বছরের প্রথম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়েছিল রাশিয়া। গত রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ওয়্যাগনার দাবি করছে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের ইয়াহিদনে গ্রমটি দখল করেছে। সেখান থেকে তারা বাখমুত শহরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি। ইয়াহিদনে এখনো ইউক্রেনের হাতেই আছে।
ওয়্যাগনারের প্রধান গত শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, ইয়াহিদনে তাদের হাতে চলে এসেছে। তার একদিন আগে পার্শ্ববর্তী বারখিভকা নিয়েও একই দাবি করেছিলেন তিনি।
বস্তুত, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়া নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। রাশিয়ার সেনার পাশাপাশি ওয়্যাগনার সেনা প্রবল লড়াই চালাচ্ছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, এখনো পর্যন্ত তারা রাশিয়ার সেনাদের আটকে রাখতে পেরেছে।
বাখমুতে এক সময় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। গত এক বছরে তা কমতে কমতে পাঁচ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। যারা আছেন, তারাও উপায় নেই বলে সেখানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। পুরো শহরটি কার্যত এক ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। তারই মধ্যে সারাদিন ধরে গোলাবর্ষণ হচ্ছে। রাশিয়া প্রাণপণে শহরটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বস্তুত, দনেৎস্ক অঞ্চলের একাধিক জায়গা নতুন করে দখলের চেষ্টায় রাশিয়া।
এদিকে, গত রোববার (২৬) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফের বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়াকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। পুটিনের ভাষ্যমতে, ‘'পশ্চিমের লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশিয়ান ফেডারেশনকে ধ্বংস করা।’
পুতিনের দাবি, ইউক্রেনকে অস্ত্র পাঠিয়ে পশ্চিম সবচেয়ে বড় অন্যায় করেছে। একই সঙ্গে এদিন ন্যাটোকেও তুলোধোনা করেছেন পুতিন। ন্যাটোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেরও হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। একথা তিনি আগেও বলেছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি রাশিয়ার এলিট ফোর্সের বহু সেনা ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন। দনেৎস্কের লড়াই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের দাবি। যদিও রাশিয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র : ডয়চে ভেলে