প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৪ পিএম
গত বুধবার পশ্চিম তীরের নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষের সময় ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ছবি : সংগৃহীত
জর্ডানে আলোচনার পর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা কমানোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা।
লোহিত সাগরের অবকাশযাপন কেন্দ্র আকাবায় গত রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ‘সহিংসতা’ প্রতিরোধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং ‘উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।’
ওেই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল আগামী চার মাস কোনো নতুন বসতি স্থাপন করতে পারবে না এবং ছয় মাসের মধ্যে কোনো নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিতে পারবে না।
‘পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং খোলামেলা আলোচনার’ পরে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পক্ষ উত্তেজনা কমাতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
মার্চের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র মাস রমজানকে সামনে রেখে সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর এবং জর্ডানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ওই বৈঠকের শেষে যৌথ বিবৃতিটি এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সমঝোতাগুলোকে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গভীর করার বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে মিশর, যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডান।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই বৈঠকটিকে একটি ‘সূচনা পয়েন্ট’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আকাবা বৈঠক সম্পর্কে সুলিভান বলেন, ‘ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য একইভাবে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে অনেক কাজ করতে হবে।
দুই পক্ষ পরের মাসে মিশরের শারম আল-শেখে আবার বসতে সম্মত হয়েছে।
ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিন্দা করেছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা শাসনকারী গ্রুপ হামাস। গ্রুপের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বৈঠকটি ‘অর্থহীন’ এবং কোনও পরিবর্তন আনবে না।
ওই বৈঠককে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বেদনা ও গণহত্যা সহ্য করা সত্ত্বেও আকাবা বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি রক্তপাত বন্ধ করার ইচ্ছা থেকে এসেছে।’
এদিকে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া বন্ধের কোনও চুক্তি তিনি মেনে চলবেন না।
স্মোট্রিচ টুইটারে লিখেছেন, ‘জর্ডানে তারা কি নিয়ে কথা বলেছেন তা নিয়ে আমার কোন ধারণা নেই। তবে আমি শুধু একটি জিনিস জানি, সেটা হলো ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে না, এমনকি একদিনের জন্যও নয়।’
সূত্র : আল জাজিরা