প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:১০ পিএম
কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দেয়ালিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই শীর্ষ নেতা ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ কয়েক মাসের মধ্যে আলাদাভাবে চীন সফর করবেন। ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের ১২ দফার প্রস্তাবের উপস্থাপনের পরই এসব ঘোষণা এলো।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্যারিসে এক অনুষ্ঠানে মাখোঁ বলেন, ’হ্যাঁ মে মাসের শুরুতেই আমি বেইজিং সফরে যাচ্ছি। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য চীন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, এটা বেশ ইতিবাচক। চীন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। রাশিয়ার সঙ্গে চীন সম্পর্ক ভালো। যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপ দিতে পারে বেইজিং। রাশিয়ার সদিচ্ছা থাকলে চীনের শান্তি প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব।’
এদিকে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইইউতে নিয়োজিত চীনা রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দেয়ালিয়েন ও ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বেইজিং সফর করবেন। তাদের সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ইইউর এই দুই নেতাও চীনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই বেইজিং সফর করবেন বলে জানা গেছে। ফু বলেন, ’ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের অবস্থান নিয়ে ইইউ বিরক্ত। কিন্তু চীন স্বাধীনভাবেই তার অবস্থান নিয়েছে। এই ইস্যুতে ইইউর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ হোক, তা বেইজিং চায় না।’
এদিকে সিএনবিসি নিউজ জানায়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ’চীন ঐতিহাসিকভাবে আমাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে আসছে। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের ভূমি থেকে রুশদের চলে যাওয়া প্রধানতম শর্ত। চীনা প্রস্তাবে তা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।’
চীনা প্রস্তাবের মূল কথা, রণক্ষেত্রে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানা সম্ভব নয়। আলোচনাই যুদ্ধ শেষের একমাত্র পথ। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে। সবাইকে ভিন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে যথাযথভাবে আমলে নিতে হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি চীনা প্রস্তাব প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার কিছু মিত্র বেইজিংয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। কিন্তু শুরু থেকে কিয়েভ ও মস্কো প্রস্তাবটি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।
সূত্র : এএফপি, সিএনবিসি।