প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:১৮ পিএম
গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বক্তব্যের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রইসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি তুলে ধরেন। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যার বদলা নিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতে চায় তেহরান। এমনটাই দাবি করেছেন ইরানের সামরিক সংস্থা রেভলিউশনারি গার্ডস অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান আমিরালি হাজিজাদেহ।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতে চাইছি।’
সম্প্রতি ১৬৫০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ইরান। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ইউক্রেনের ওপর আরও আগ্রাসি হতে রুশ সেনার হাতে ড্রোন তুলে দিয়েছে ইরান। রাশিয়া সেই ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সে দেশের বহু সরকারি আবাসন ধ্বংসে ব্যবহার করেছে। তার পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর নজর পড়েছে ইরানের ওপর।
তাই সবরকম পরিস্থিতির জন্য নিজেদের আগেভাগে প্রস্তুত রাখতেই এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে বলে ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রসঙ্গে ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আমিরালি বলেন, ‘১৬৫০ কিলোমিটার পাল্লার একটি নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অস্ত্রাগারে জায়গা পেয়েছে।’
আমিরালি জানান, ২০২০ সালে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এর বদলা নিতে কয়েক দিন পর ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালিয়েছিল ইরান। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সেনা মারা যায়। তবে সেই সেনাদের হত্যা করার কোনো ইচ্ছা ইরানের ছিল না।
সোলাইমানি হত্যার আসল দায় ট্রাম্পের ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের ইচ্ছায় আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করতে চাই। হত্যা করতে চাই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেওকেও। যে সামরিক কমান্ডাররা সোলাইমানিকে হত্যার আদেশ জারি করেছিলেন, তাদেরও হত্যা করা উচিত।’
এর আগেও সোলাইমানির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিশোধ নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইরানের শীর্ষ নেতারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগকে পাত্তা না দিয়েই দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে ইরান।
যদিও সে দেশের সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সম্পূর্ণরূপে নিজেদের প্রতিরক্ষার স্বার্থে এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র : আল আরাবিয়া