প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:০৪ এএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:০৭ এএম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের অন্যান্য সহযোগী সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ২০ বছরের মধ্যে সামগ্রিক মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। এরপরেও ২০২০ সালেই প্রতিদিন প্রসবজনিত জটিলতায় মারা গেছেন ৮০০ নারী। ছবি : সংগৃহীত
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়ে গেলেও বিশ্বের বড় একটি অংশের মানুষ
পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত। বিশেষ করে দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে নারী স্বাস্থ্য
ও প্রসবজনিত বিষয়গুলোতে অসচেতনতা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রগুলোর
ভূমিকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে প্রসবজনিত মৃত্যু কমলেও এখনও সংখ্যাটি বড় মাত্রায়
রয়ে গেছে। এমনকি বেশ কিছু দেশে বেড়েছেও।
জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ২০ বছরে
বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার এক তৃতীয়াংশ কমে গেলেও এখনও গর্ভাবস্থা বা প্রসবজনিত জটিলতার
কারণে প্রতি ২ মিনিটে একজন নারীর মৃত্যু হয়।প্রসবকালে গুরুতর রক্তপাত, সংক্রমণ,
অনিরাপদ গর্ভপাত থেকে সৃষ্ট জটিলতা ও এইচআইভি/এইডস-এর মতো অন্তর্নিহিত অবস্থা এখনও
এ ধরনের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের অন্যান্য সহযোগী সংস্থার
রিপোর্ট অনুসারে, ২০ বছরের মধ্যে সামগ্রিক মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। এরপরেও ২০২০ সালেই
প্রতিদিন প্রসবজনিত জটিলতায় মারা গেছেন ৮০০ নারী। অর্থ্যাৎ প্রতি ২ মিনিটে ১ জন।
তবে গত ২০ বছরে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি সফল বেলারুশ।
দেশটিতে গত ২০ বছরে ৯৫.৫ শতাংশ কমেছে। উল্টো দিকে সবচেয়ে বেশি মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে
ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে
পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে প্রসব জনিত স্বাস্থ্যসেবা
খাতেও।
এ ছাড়া উন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রসবজনিত কারণে নারীদের মৃত্যুর হার
বেড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস ও সাইপ্রাসে মৃত্যুর হার
বৃদ্ধি পেয়েছে, বাকি দেশগুলোতে কমেছে।
আফগানিস্তান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
কঙ্গো, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে মাতৃমৃত্যুর হার বৈশ্বিক
গড়ের থেকে দ্বিগুণ। এ দেশগুলোর অধিকাংশই গৃহযুদ্ধে জর্জরিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ট্রেডোস আধানম বলেন, ‘যদিও গর্ভাবস্থা
একজন নারীর প্রত্যাশার সময় ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত। কিন্তু, এটি দুঃখজনকভাবে বিশ্বজুড়ে লাখ
লাখ নারীদের জন্য মর্মান্তিকভাবে বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা।’
সূত্র : এনডিটিভি