প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৫২ এএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:১৪ এএম
লাদাখের খুব কাছ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।
দখল করে নেওয়া ভারতীয় জমিতে এবার রেললাইন নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। গতকাল রবিবার হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরেই ভারত-চীন সীমান্তে অশান্তি লেগেই রয়েছে।
এর মধ্যে সীমান্তের কাছে সেতু, রাস্তা বা রেললাইনের মতো অবকাঠামো তৈরি হলে নতুন করে অশান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে চীন যে রেললাইন নির্মাণ করতে চলেছে তা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছ পর্যন্ত চলে আসবে। এর আগে অরুণাচল প্রদেশ ও তিব্বত সীমান্তের খুব কাছে পর্যন্ত বুলেট ট্রেনের লাইন নির্মাণ করে চীন। সেই রেললাইনে নিয়মিত ট্রেন চলাচলও করে। এবার একইভাবে লাদাখেরও খুব কাছ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।
জানা গেছে, নতুন এই রেললাইন নির্মাণের ঘোষণা করেছে তিব্বত ‘অটোনোমাস রিজিওন’ সরকার। সেই লাইন আকসাই চীনের মধ্য দিয়ে যাবে। ষাটের দশকে ভারতের অজ্ঞাতে এই জমি চীন দখল করেছিল। সেখান দিয়েই পাকিস্তান হয়ে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর কাজও চালাচ্ছে চীন। এর ফলে সরাসরি গিলগিট হয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে চীন।
চীনের এই পদক্ষেপের কারণে ভারত সরকার স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাসনে থাকা তিব্বতি সরকারও। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পাণ্ডে জানিয়েছিলেন, সীমান্তে চীনা সেনাদের সংখ্যা বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই রেললাইন নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পিপলস লিবারেশন আর্মি জওয়ানের সংখ্যা বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকসাই চীনের প্রায় ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা বেদখল করে নিয়েছিল চীন। পঞ্চশের দশক থেকে এই দখলদারি শুরু হয়েছিল ধাপে ধাপে। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পর এ অঞ্চলের ওপর নিজেদের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করেছিল চীন সরকার।
এদিকে চীন চাইছে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে তিব্বতে তাদের রেল নেটওয়ার্ককে চার হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত করতে। বর্তমানে তিব্বতে মাত্র ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন রয়েছে।
তিব্বত নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করে। তিব্বতের সরকার নির্বাসনে রয়েছে। মূলত ভারত থেকেই তারা কার্যক্রম জারি রেখেছে। তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দালাই লামাও বারবার চীনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ১৯৪৯ সালে তিব্বত দখল করেছিল চীন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস