প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫৮ পিএম
জর্জ সোরোস। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আদানি গ্রুপের কর্ণধার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের মিত্র গৌতম আদানির ‘অনৈতিক আচরণ’ দেশটিকে ভোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দানবীর জর্জ সোরোস। সোরোসের এ মন্তব্য ভারতের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত ও সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে আলোচনাকালে ৯২ বছর বয়সি সোরোস বলেন, মোদি ও আদানি ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাদের ভাগ্য এক সুতোয় গাঁথা। আদানি গ্রুপ বর্তমানে বড় ধরনের সমস্যায় রয়েছে। এটা মোদি সরকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করবে। ফলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অনিবার্য হয়ে পড়বে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোরোসের এ ধরনের মন্তব্যে ব্যাপক ক্ষেপেছে বিজেপি।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মোদি সরকারের নারী ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, জর্জ সোরোসের নেতৃত্বে একটি বিদেশি শক্তি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে ওঠেপড়ে লেগেছে। সোরোস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। তিনি এখানে এমন একটি ব্যবস্থা কায়েম করতে চান যা ভারতের চেয়ে তার স্বার্থের জন্য বেশি লাভজনক।
ইরানি আরও বলেন, জর্জ সোরোস শুধু ভারতের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি প্রকৃত অর্থে সরকার বদলের কথা বলেছেন। কিন্তু তার মনে রাখা উচিত ভারত সব সময় বিদেশি শক্তিকে পরাজিত করেছে। ভবিষ্যতেও তা আব্যাহত রাখবে।
২৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, বিদেশি কর স্বর্গে অর্থ রেখে, শেয়ারবাজারকে নানানভাবে প্রভাবিত করে বিপুল সম্পদ গড়েছে আদানি গ্রুপ। ঋণের বিপরীতে তাদের প্রকৃত সম্পদ অনেক কম। কিন্তু তারা তা গোপন করে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর আদানি গ্রুপের শেয়ারমূল্যে ধস নামে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার কোটি ডলার শেয়ার মূল্য হারিয়েছে গ্রুপটি।
হিন্ডেবার্গের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আদানি গ্রুপ নিয়ে মুখ খুলেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। তবে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে মোদি বলেন, ১৪০ কোটি মানুষের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে রয়েছে। আমাকে রক্ষা করার জন্য এটাই যথেষ্ট। মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে কেউ এটা ধ্বংস করতে পারবে না।
মোদির বক্তৃতার সময় বিরোধীরা ‘আদানি, আদানি’ বলে স্লোগান দেন।
সূত্র : রয়টার্স