প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২২ ১১:২১ এএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২ ১১:৩৪ এএম
ছবি : বিবিসি।
ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রেহমান। বিধ্বংসী আকস্মিক এ বন্যায় ভেসে গেছে রাস্তা, বাড়িঘর ও ফসল। যা পাকিস্তানজুড়ে সৃষ্টি করেছে মারাত্মক বিপর্যয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান এই বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১১শ ছাড়িয়েছে।
জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রেহমান একে অকল্পনীয় সংকট উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি বিশাল সমুদ্র। পানি সেচে ফেরার জন্য কোনো শুকনো জমি নেই।
কর্মকর্তাদের মতে, গত জুনে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর সৃষ্ট এই বন্যায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে এক হাজার ১৩৬ জন মারা গেছে। গত এক দশকের মধ্যে এমন ভারী বৃষ্টি আর হয়নি। এ মারাত্মক বিপর্যয়ের জন্য পাকিস্তানের সরকার জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেশটির জলবায়ুমন্ত্রী জানান, ‘আক্ষরিক অর্থে, পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এই মুহূর্তে পানির নিচে। দুর্যোগের এই মাত্রা অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা এর আগে কখনো এ পরিস্থিতি দেখিনি।’
গতকাল সোমবার পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার কারণে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি বলেছেন, ‘নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছি।’
ঐতিহাসিক এ বন্যায় পাকিস্তানে তিন কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া ভয়াবহ এই বন্যায় পাকিস্তানের ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের অনুমান, পাকিস্তান এক হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
ইকবাল আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা এক হাজারেরও বেশি মানুষ হারিয়েছি। প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ আসলে তাদের সম্পূর্ণ জীবিকা হারিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে থাকা পাকিস্তানের জন্য এ বন্যার ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য সংস্থা, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্য দেশগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। তবে দুযোর্গ মোকাবিলায় আরও তহবিল প্রয়োজন।
প্রবা/এনএস/ এসআর